আর্থিক জালিয়াতির জালে মুকেশের ভাই! এক ধাক্কায় ৩,০৩৪ কোটির সম্পদ কাড়ল ইডি, দেউলিয়া হওয়ার পথে অনিল আম্বানি?

আর্থিক জালিয়াতি বা মানি লন্ডারিং মামলায় বড়সড় ধাক্কা খেলেন রিলায়েন্স এডিএ গ্রুপের (Reliance ADAG) প্রধান অনিল আম্বানি। দীর্ঘ তদন্তের পর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) অনিল আম্বানি গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৩,০৩৪ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই পদক্ষেপে দেশের শিল্পমহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

কেন এই কঠোর পদক্ষেপ? ইডির অভিযোগ, অনিল আম্বানি গ্রুপ একটি বড় মাপের আর্থিক জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত। মূলত ইয়েস ব্যাংক (Yes Bank) এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের টাকা নয়ছয় করা এবং অবৈধভাবে সেই অর্থ অন্য সংস্থায় সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। পিএমএলএ (PMLA) আইনের আওতায় এই তদন্ত চালানো হচ্ছিল।

বাজেয়াপ্ত সম্পত্তিতে কী কী আছে? তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তির তালিকায় রয়েছে:

  • মুম্বই ও দেশের অন্যান্য শহরে থাকা রিলায়েন্স গ্রুপের বেশ কিছু দামী রিয়েল এস্টেট প্রপার্টি।

  • বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার এবং ফিক্সড ডিপোজিট।

  • গ্রুপের একাধিক সদর দফতরের অংশবিশেষ।

সংকটে অনিল আম্বানি: একসময়ের বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি অনিল আম্বানি গত কয়েক বছর ধরেই চরম আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তার একের পর এক সংস্থা দেউলিয়া ঘোষিত হয়েছে। এর আগে বিদেশি আদালতেও তাকে সম্পত্তির হিসেব দিতে হয়েছিল। এবার খোদ দেশের কেন্দ্রীয় সংস্থার এই কড়া পদক্ষেপ তার আইনি লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলল।

পরবর্তী পদক্ষেপ: ইডির এই আদেশের পর এখন সম্পত্তিগুলো আইনিভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। অনিল আম্বানি বা তার গ্রুপ এই আদেশের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারেন কি না, এখন সেটাই দেখার। তবে এই বিশাল অঙ্কের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হওয়ায় আম্বানি গ্রুপের শেয়ারে বড় ধসের আশঙ্কা করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।