জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আফগান মহাতারকা! দিল্লির হাসপাতালে লড়ছেন বিরল রোগের সাথে, জরুরি ভিত্তিতে রক্তদাতার খোঁজে পরিবার

মাঠের ২২ গজে একসময় বুক কাঁপানো গতির ঝড়ে প্রতিপক্ষকে কুপোকাত করতেন তিনি। কিন্তু আজ জীবনের কঠিনতম লড়াইয়ে তিনি নিজেই কোণঠাসা। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আফগানিস্তান ক্রিকেটের কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার শাপুর জাদরান। ভারতের নয়াদিল্লির একটি হাসপাতালে বর্তমানে অত্যন্ত বিরল এবং জীবনঘাতী এক রোগের বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছেন এই তারকা পেসার।

বিরল ও ভয়ঙ্কর রোগ ‘HLH’
চিকিৎসা পরিভাষায় শাপুর জাদরান ‘Hemophagocytic Lymphohistiocytosis’ বা সংক্ষেপে ‘HLH’ নামক এক মারাত্মক ইমিউন ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত। এটি এমন একটি বিরল অবস্থা যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা (ইমিউন সিস্টেম) সুস্থ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও টিস্যুকে শত্রু মনে করে আক্রমণ করতে শুরু করে। এর ফলে রোগীর লিভার, প্লীহা এবং অস্থিমজ্জায় মারাত্মক প্রদাহের সৃষ্টি হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শাপুরের ক্ষেত্রে এই রোগটি ইতিমধ্যেই চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন
শাপুরের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাঁর ভাই ঘমাই জাদরান সমাজমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় দেশবাসী ও ক্রিকেট ভক্তদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। দিল্লিতে চিকিৎসাধীন শাপুরের জীবন বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে ‘এ পজিটিভ’ (+A) রক্তের প্রয়োজন। দিল্লির বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে ঘমাই লিখেছেন, “প্রার্থনা ভাগ্য বদলে দিতে পারে এবং রক্ত জীবন বাঁচায়।” তাঁর এই হাহাকার বিঁধেছে ক্রিকেট বিশ্বের প্রতিটি কোণায়।

অসুস্থতার জটিল ইতিহাস
৩৮ বছর বয়সী এই পেসারের লড়াইটা বেশ দীর্ঘ। গত বছরের অক্টোবর থেকে তাঁর শরীরে যক্ষ্মা-সহ নানা সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায়, সংক্রমণটি তাঁর মস্তিষ্কেও ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতে চিকিৎসার পর গত কয়েক দিন কিছুটা সুস্থ বোধ করলেও, মাত্র ২০ দিনের মাথায় আবারও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে পুনরায় ভর্তি করতে হয়।

আফগান ক্রিকেটের রূপকথার নায়ক
আফগানিস্তানের ক্রিকেটের আজকের যে উত্থান, তার অন্যতম কারিগর ছিলেন এই শাপুর জাদরান। ২০০৯ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ৪৪টি ওডিআই এবং ৩৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দেশের জার্সি গায়ে ৮০টি আন্তর্জাতিক উইকেট নিয়েছেন তিনি। তবে সব ছাপিয়ে ক্রিকেট প্রেমীদের মনে অক্ষয় হয়ে আছে ২০১৫ বিশ্বকাপের সেই মুহূর্তটি, যেখানে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাঁর ব্যাট থেকেই এসেছিল আফগানিস্তানের ঐতিহাসিক জয়সূচক রানটি।