‘সন্ত্রাসবাদীদের স্বর্গরাজ্য আর নিরাপদ নয়!’ SCO বৈঠকে পহেলগাম হামলা ও ‘অপারেশন সিঁদুর’ টেনে কড়া হুঁশিয়ারি রাজনাথের

বর্তমানের অস্থির বিশ্ব পরিস্থিতিতে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বা এসসিও-র (SCO) বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি দিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। একতরফা সিদ্ধান্ত ও সংঘাতের বিরোধিতা করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সন্ত্রাসবাদ এবং মৌলবাদই এখন বিশ্বের বৃহত্তম শত্রু। বিশেষ করে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের মদতদাতাদের বিরুদ্ধে তিনি দ্বৈত নীতি ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

পহেলগাম হামলার স্মৃতি ও ‘অপারেশন সিঁদুর’
রাজনাথ সিং তাঁর ভাষণে গত বছর (২০২৫) জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে ঘটে যাওয়া নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গটি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই হামলা সমগ্র মানবতাকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। ভারত যে হাত গুটিয়ে বসে নেই, তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর কথা উল্লেখ করেন। তিনি সাফ জানান, এই অভিযানের মাধ্যমে ভারত প্রমাণ করেছে যে সন্ত্রাসীদের কোনো গোপন ডেরা বা নিরাপদ আশ্রয়স্থল এখন আর নিরাপদ নয়।

সন্ত্রাসবাদের কোনো ধর্ম নেই
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, সন্ত্রাসবাদ বা চরমপন্থাকে কোনো অজুহাতেই সমর্থন করা যায় না। তাঁর মতে:

সন্ত্রাসবাদের কোনো ধর্ম বা জাতীয়তা হয় না।

যারা সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় বা মদত দেয়, তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলের কঠোর হওয়া উচিত।

আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর সরাসরি আক্রমণ।

শান্তি ও স্থিতিশীলতার ডাক
এসসিওভুক্ত দেশগুলোর উদ্দেশ্যে রাজনাথ সিং বলেন, “বিশ্বের একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থার প্রয়োজন নেই, বরং এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা প্রয়োজন যেখানে মতপার্থক্য কখনও বিবাদে পরিণত হবে না।” মহাত্মা গান্ধীর আদর্শকে সামনে রেখে তিনি বলেন, “চোখের বদলে চোখ নিলে গোটা বিশ্ব অন্ধ হয়ে যাবে।” যুদ্ধের বদলে তিনি কূটনীতি ও সংলাপের পথে সমস্যার সমাধানের ওপর জোর দেন।

বসুধৈব কুটুম্বকম: বিশ্বই এক পরিবার
ভারত আবারও আন্তর্জাতিক মঞ্চে ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ (সমগ্র বিশ্ব এক পরিবার) বার্তার পুনরাবৃত্তি করেছে। রাজনাথ সিং আশাপ্রকাশ করেন যে, এসসিও দেশগুলো যদি পারস্পরিক আস্থা ও সমতার ভিত্তিতে কাজ করে, তবে এই সংস্থা বিশ্বশান্তির এক শক্তিশালী স্তম্ভ হয়ে উঠবে। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভারত এসসিও-র লক্ষ্য পূরণে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি জানান।

উপসংহার: রাজনাথ সিংয়ের এই বার্তা বিশেষত প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য এক প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সন্ত্রাসবাদের শিকড় উপড়ে ফেলতে ভারতের জিরো টলারেন্স নীতি যে বজায় থাকবে, তা আজ আবারও বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত হলো।