ছেলের বিয়েতে ডিজে বাজিয়েই মহাবিপদ! গোটা পরিবারকে একঘরে করল গ্রাম পঞ্চায়েত, তোলপাড় গ্রেটার নয়ডা

উত্তরপ্রদেশের হাই-টেক শহর গ্রেটার নয়ডার নওয়াদা গ্রাম এখন সংবাদের শিরোনামে। তবে কোনো উন্নয়নের জন্য নয়, বরং এক আদিম ও কঠোর পঞ্চায়েতি ফরমানের জন্য। ছেলের বিয়েতে ডিজে (DJ) বাজানোর ‘অপরাধে’ একটি পরিবারকে সম্পূর্ণভাবে সামাজিক বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছে গ্রামের মোড়লরা। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ঐতিহ্য বনাম ব্যক্তি স্বাধীনতার এক চরম সংঘাত শুরু হয়েছে।

কেন এই নিষিদ্ধি?
ঘটনার সূত্রপাত প্রায় দুই মাস আগে। গ্রামের এক পঞ্চায়েত সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, বিয়ে বা অন্য কোনো অনুষ্ঠানে ডিজে মিউজিক বাজানো যাবে না। পঞ্চায়েতের যুক্তি ছিল—ডিজে শব্দদূষণ ঘটায়, সামাজিক পরিবেশ নষ্ট করে এবং উচ্চশব্দে গানবাজনা প্রায়শই পাড়ায় সংঘাতের সৃষ্টি করে। গ্রামের প্রতিটি পরিবারকে এই নির্দেশ কঠোরভাবে মেনে চলতে বলা হয়েছিল।

সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন ও ‘একঘরে’ করার সাজা
সম্প্রতি গ্রামের একটি পরিবার তাদের ছেলের বিয়েতে সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ডিজে-র ব্যবস্থা করে। বিষয়টি জানাজানি হতেই তড়িঘড়ি সভা ডাকেন গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠরা। তাঁদের মতে, পঞ্চায়েতের আদেশ অমান্য করা মানেই পঞ্চায়েতকে চ্যালেঞ্জ করা। শাস্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয় ‘সামাজিক বয়কট’।

শাস্তির নিয়ম: গ্রামের কোনো মানুষ ওই পরিবারের সাথে মেলামেশা করবে না।

সামাজিক বর্জন: কোনো বিয়ের ভোজ, ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা সামাজিক আয়োজনে ওই পরিবারকে আমন্ত্রণ জানানো হবে না।

প্রকাশ্য ঘোষণা: পুরো গ্রামে ঢাক পিটিয়ে এই বয়কটের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে অন্য কেউ একই ‘ভুল’ না করে।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু: কঠোরতা না কি শৃঙ্খলা?
পঞ্চায়েতের এই সিদ্ধান্তের পর গ্রামে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাংশের মতে, গ্রামের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় পঞ্চায়েতের এমন দৃঢ় অবস্থান প্রশংসনীয়। অন্যদিকে, প্রগতিশীল সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে—একটি নিছক ডিজে বাজানোর অপরাধে একটি পরিবারকে সামাজিকভাবে একঘরে করে দেওয়া অত্যন্ত অমানবিক এবং বেআইনি।

আইনি জটিলতার আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতের সংবিধান অনুযায়ী কাউকে এভাবে সামাজিকভাবে বয়কট করা অপরাধের শামিল। বিষয়টি যদি জেলা প্রশাসনের কানে পৌঁছায়, তবে পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের আইনি মারপ্যাঁচে পড়তে হতে পারে। ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বনাম গ্রাম্য ঐতিহ্যের এই লড়াই এখন কতদূর গড়ায়, সেদিকেই নজর সবার।