অষ্টম বেতন কমিশনে লটারি! শিক্ষকদের মূল বেতন কি ১.৩৪ লক্ষ টাকা হচ্ছে? মোদী সরকারের কাছে জমা পড়ল বড় দাবি

কেন্দ্রীয় সরকার অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করতেই দেশজুড়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে শুরু হয়েছে হিসাব-নিকাশ। মূল্যস্ফীতি এবং বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবার বেতন কাঠামোতে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের দাবি উঠেছে। বিশেষ করে শিক্ষক এবং পোস্টাল বিভাগের কর্মচারীরা সরকারের কাছে যে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন, তা কার্যকর হলে পকেটে আসবে মোটা টাকা।

শিক্ষক ও পোস্টম্যানদের পাহাড়প্রমাণ দাবি
অষ্টম বেতন কমিশনের অধীনে বিভিন্ন সরকারি সংগঠন তাঁদের প্রস্তাবিত বেতনের তালিকা জমা দিয়েছে:

শিক্ষকদের দাবি: নতুন শিক্ষকদের (লেভেল ৬) বর্তমান বেতন কাঠামো ভেঙে মূল বেতন ১,৩৪,৫০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া লেভেল ১-এর কর্মচারীদের ন্যূনতম বেতন বর্তমানে ১৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০,০০০-৬০,০০০ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে। শিক্ষকদের দাবি, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ৩% থেকে বাড়িয়ে ৬-৭% করা হোক।

পোস্টম্যানদের দাবি: ফেডারেশন অফ ন্যাশনাল পোস্টাল অর্গানাইজেশনস (FNPO) দাবি জানিয়েছে, পোস্টম্যান এবং মেল গার্ডদের (লেভেল ৫) মূল বেতন ২৫,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ১.১২ লক্ষ টাকা করতে হবে। এছাড়া এন্ট্রি লেভেল কর্মীদের ন্যূনতম বেতন ৬৯,০০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বেতন বৃদ্ধির চাবিকাঠি: ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর
বেতন বৃদ্ধির পুরো বিষয়টি নির্ভর করে ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’-এর ওপর। সপ্তম বেতন কমিশনে এটি ছিল ২.৫৭। এবার কর্মচারী সংগঠনগুলো দাবি তুলেছে:
১. ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বাড়িয়ে ৩.৮৩ করতে হবে।
২. এর ফলে মূল বেতনে এক ধাক্কায় ব্যাপক বৃদ্ধি আসবে।
৩. বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্ট ৩% থেকে বাড়িয়ে ৬% করতে হবে।

কীভাবে নির্ধারিত হয় আপনার নতুন বেতন?
অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকর হলে সরকার মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে নতুন স্যালারি স্লিপ তৈরি করবে:

১. ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর: এটি দিয়ে বর্তমান মূল বেতনকে গুণ করে নতুন মূল বেতন (Basic Pay) নির্ধারণ করা হয়।
২. পে ম্যাট্রিক্স: লেভেল ১ থেকে ১৮ পর্যন্ত একটি সুশৃঙ্খল চার্টের মাধ্যমে পদমর্যাদা অনুযায়ী বেতন ধাপ ঠিক করা হবে।
৩. ভাতাসমূহ (Allowances): নতুন মূল বেতনের সঙ্গে যোগ হবে মহার্ঘ ভাতা (DA), বাড়ি ভাড়া (HRA) এবং পরিবহন ভাতা (TA)।

কেন এই আকাশছোঁয়া দাবি?
কর্মচারী সংগঠনগুলোর যুক্তি, আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতি, শিশুদের শিক্ষার ব্যয় এবং স্বাস্থ্যসেবার চড়া দামের কারণে বর্তমান ৩% ইনক্রিমেন্ট বা বর্তমান বেতন কাঠামো একেবারেই অপর্যাপ্ত। বিশেষ করে মেট্রো শহরগুলিতে জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে এই বিপুল বেতন বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।

উপসংহার: সরকার শেষ পর্যন্ত কতটা দাবি মেনে নেয়, সেটাই এখন দেখার। তবে বেতন কমিশনের এই সুপারিশগুলো কার্যকর হলে ২০২৬ সালে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রায় এক আমূল পরিবর্তন আসতে চলেছে।