হেরিটেজ হয়েও কি গুরুত্বহীন শান্তিনিকেতন? বিশ্বভারতীকে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য, মোদি জমানায় কেন কমল বিদেশের টান?

গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তখন তাঁর লক্ষ্য ছিল— ‘যত্র বিশ্বং ভবত্যেকনীড়ম’। অর্থাৎ যেখানে সারা বিশ্ব এক নীড়ে মিলিত হবে। কিন্তু আজ রবীন্দ্রনাথের সেই স্বপ্ন কি কেবলই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ? ইউনেস্কোর (UNESCO) তরফে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ বা বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ার পরেও আন্তর্জাতিক স্তরে বিশ্বভারতীর গরিমা ও বিদেশের সঙ্গে সংযোগ আশঙ্কাজনকভাবে কমছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিদেশের যোগে ভাটা

রবীন্দ্রনাথের সময়ে বিশ্বভারতীর সঙ্গে বিশ্বের তাবড় বিদ্বান ও বিদেশি পণ্ডিতদের আত্মিক যোগাযোগ ছিল। চীন, জাপান থেকে শুরু করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞরা সেখানে আসতেন। কিন্তু বর্তমান আচার্য নরেন্দ্র মোদির জমানায় সেই চিত্রটা অনেকটাই বদলে গিয়েছে। তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশি ছাত্রছাত্রী এবং বিদেশি অধ্যাপকদের আনাগোনা অভাবনীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে।

কেন এই ‘অনাদর’?

শিক্ষাবিদ ও শান্তিনিকেতন প্রেমীদের একাংশের মতে, বিশ্বভারতীর প্রশাসনিক জটিলতা এবং সাম্প্রতিক কিছু বিতর্ক এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তাঁদের দাবি:

  • প্রশাসনিক কড়াকড়ি: অকারণ প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যে আদান-প্রদান ছিল, তাতে মরচে ধরেছে।

  • মুক্ত চিন্তার অভাব: যে মুক্ত চিন্তার জন্য রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতন গড়েছিলেন, বর্তমান পরিকাঠামোয় তার অভাব বিদেশের গবেষকদের বিমুখ করছে।

  • ইউনেস্কো তকমা ও বাস্তবতা: ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষিত হওয়ার পর পর্যটন বাড়লেও, প্রকৃত শিক্ষামূলক আদান-প্রদান সেভাবে বাড়েনি।

আচার্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পদাধিকার বলে বিশ্বভারতীর আচার্য। তাঁর সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংস্কারের কথা বারবার বলা হলেও, কেন বিদেশের সাথে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে— তা নিয়ে সরব হয়েছেন প্রাক্তনীরা। আশ্রমিকদের মতে, কেবল ঐতিহ্যবাহী ভবন সংস্কার করলেই হবে না, বিদেশের কাছে বিশ্বভারতীর সেই পুরনো বৌদ্ধিক আকর্ষণ ফিরিয়ে দেওয়াও জরুরি।

রবীন্দ্রনাথের সার্ধশতবর্ষ অতিক্রান্ত হওয়ার পর এই ‘বিশ্বের মিলনমেলা’ আজ কেন ব্রাত্য হওয়ার পথে, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।