“বাংলা উত্তরপ্রদেশ নয়!”-সিংঘম আইপিএস-এর অ্যাকশনে ফুঁসছে তৃণমূল, মুখ খুললেন খোদ অখিলেশ

নির্বাচনের আগের দিন রণক্ষেত্র দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা। ১০০টি এনকাউন্টারের রেকর্ডধারী উত্তরপ্রদেশের দুঁদে আইপিএস (IPS) অজয় পাল শর্মার ‘দাবাং’ অবতার এখন টক অফ দ্য টাউন। ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পেতেই সোজা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়িতে হানা দিলেন এই পুলিশ পর্যবেক্ষক। সেখানে প্রার্থীকে না পেয়ে তাঁর পরিবারের সদস্য ও উপস্থিত পুলিশ কর্মীদের যে ভাষায় সতর্ক করলেন তিনি, তা নিয়ে এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।

“বদমায়েশি করলে ছাড়া হবে না”

ফলতার বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভিযোগ আসছিল যে, জাহাঙ্গির খানের লোকেরা ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছেন। অভিযোগ পাওয়ামাত্রই আসরে নামেন অজয় পাল শর্মা। স্থানীয় পুলিশ প্রথমে ঠিকানা জানাতে গড়িমসি করলেও, নিজেই খুঁজে বের করেন প্রার্থীর বাড়ি। সেখানে পৌঁছে কড়া ভাষায় তিনি বলেন:

“জাহাঙ্গিরকে বলে দেবেন, বারবার অভিযোগ আসছে তাঁর লোকেরা হুমকি দিচ্ছে। বদমায়েশি করলে আর ছাড়া হবে না। ভোটারদের হয়রানি করার চেষ্টা করলে আমি কঠোর ব্যবস্থা নেব। পরে যেন পস্তাতে না হয়।”

নিরাপত্তা নিয়ে বিস্ফোরক প্রশ্ন

তৃণমূল প্রার্থীর বাড়িতে পৌঁছে আরও একটি বিষয় দেখে তাজ্জব হয়ে যান এই এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট। তিনি দেখেন, সেখানে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ১৪ জন সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। তৎক্ষণাৎ স্থানীয় পুলিশ সুপারের কাছে তিনি জানতে চান, একজন প্রার্থীর জন্য এত পুলিশ কেন? জবাবে সুপার জানান, জাহাঙ্গির খান ‘ওয়াই’ (Y) ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পান। এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে আইপিএস শর্মা অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের কারণ চেয়ে নোটিশ জারি করেছেন।

রাজনৈতিক তরজা: তৃণমূল বনাম বিজেপি

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই বিজেপির আইটি সেল প্রধান অমিত মালব্য টুইট করে অজয় পাল শর্মার পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠদের দাপট দেখানোর দিন শেষ। এবার আইন তার নিজের পথে চলবে।”

পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূলও। এক বিবৃতিতে ঘাসফুল শিবির জানিয়েছে:

  • নির্বাচন কমিশন পরিকল্পিতভাবে এক ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’কে বাংলার ওপর চাপিয়ে দিয়েছে।

  • অজয় পাল শর্মার বিরুদ্ধে অতীতে ফৌজদারি অসদাচরণের অভিযোগ ছিল।

  • স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে— “বাংলা উত্তরপ্রদেশ নয়।”

মাঠে নামলেন অখিলেশ যাদব

এই বিতর্কে ঘৃতাহুতি দিয়েছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের ভোট প্রভাবিত করতে উত্তরপ্রদেশ থেকে তাদের ‘টেস্টেড এজেন্ট’ পাঠিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন জানিয়ে তিনি হিন্দিতে পোস্ট করেন, “দিদিই থাকবেন। সময় এলে এই অফিসারদের রাজনৈতিক দালালি ও অন্যায়ের কড়া শাস্তি হবে।”

ভোটের কয়েক ঘণ্টা আগে এক পুলিশ আধিকারিককে কেন্দ্র করে এমন নজিরবিহীন সংঘাতের সাক্ষী আগে কখনও হয়নি বাংলা। এখন দেখার, এই উত্তাপ আগামীকাল ব্যালট বক্সে কী প্রভাব ফেলে।