“ভোট লুঠের ছক রুখতে রণকৌশল বদল!”-পুলিশকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য নেওয়ার কড়া বার্তা

আগামীকাল বুধবার রাজ্যের ১৪২টি আসনে দ্বিতীয় দফার হাইভোল্টেজ ভোট। কিন্তু তার আগেই ভাটপাড়া থেকে কুমারগঞ্জ—একাধিক জায়গায় রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনায় নড়েচড়ে বসল নির্বাচন কমিশন। অশান্তি রুখতে এবং অবাধ ভোট নিশ্চিত করতে এবার রাজ্য পুলিশকে কড়া নির্দেশ দিল রাজ্যের সিইও (CEO) দপ্তর। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভোটারদের ভয় দেখানো বা ভোট প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার সামান্যতম চেষ্টা হলেও কড়া হাতে তা দমন করতে হবে।
কমিশনের কড়া নির্দেশিকা: একনজরে
রাজ্যের সিইও দপ্তর থেকে জারি করা নির্দেশিকায় পুলিশকে মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দিতে বলা হয়েছে:
-
অবৈধ জমায়েত নিষিদ্ধ: বুথের আশেপাশে বা স্পর্শকাতর এলাকায় কোনোভাবেই ভিড় বা অবৈধ জমায়েত করতে দেওয়া যাবে না।
-
হাইকোর্টের নির্দেশ পালন: ভোট পরিচালনায় কলকাতা হাইকোর্ট এবং নির্বাচন কমিশনের সমস্ত গাইডলাইন অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে।
-
কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যবহার: কোনো এলাকায় ঝামেলা শুরু হলে বা পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাওয়ার উপক্রম হলে দেরি না করে সরাসরি কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য নিতে হবে।
কেন এই বাড়তি সতর্কতা?
নির্বাচনের প্রথম দফায় (২৩ এপ্রিল) দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকারকে মারধরের মতো একাধিক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া গত রবিবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়ায় বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষ এবং অর্জুন সিংয়ের ছেলে পবন সিংয়ের নিরাপত্তারক্ষীর গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা কমিশনকে ভাবিয়ে তুলেছে।
কমিশনের আশঙ্কা, দ্বিতীয় দফার ১৪২টি আসনেও দুষ্কৃতীরা ভোটারদের ভয় দেখানো বা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটানোর ষড়যন্ত্র করতে পারে। তাই ভোটারদের ‘ঢাল’ হয়ে দাঁড়াতে পুলিশকে বিশেষ সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নজরে জেলাশাসক ও বিশেষ ঘটনা
ভোটের মুখে নাড়ু ভকতের আবাসনে জেলাশাসকের উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও প্রশাসন একে ‘কাকতালীয়’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তবে কমিশনের নজরদারিতে কোনো ঢিলেমি নেই। অন্যদিকে, ভোটের কড়াকড়িতে মদের দোকান বন্ধ থাকায় গ্রামীণ এলাকায় তাড়ির বিক্রি বাড়ার মতো বিচিত্র খবরও উঠে আসছে।
সব মিলিয়ে, বুধবারের ভোট যাতে কোনো রক্তপাত বা অশান্তি ছাড়াই শেষ হয়, তার জন্য এবার কোমর বেঁধে নেমেছে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।