‘দিদি ও দিদি’ অতীত! ২০২৬-এ ভোলবদল বিজেপির, ৩ স্ট্র্যাটেজিতে কি টলবে তৃণমূলের দুর্গ?

২০২১-এর হাইভোল্টেজ নির্বাচনে ২০০ আসন পাওয়ার দাবি করলেও শেষ পর্যন্ত ৭৭-এ থমকে যেতে হয়েছিল গেরুয়া শিবিরকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেবার বাংলার মানুষের পালস বুঝতে কিছুটা হলেও ভুল করেছিল দিল্লি। তবে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে সেই ‘রাজনৈতিক শিক্ষা’ কাজে লাগিয়ে সম্পূর্ণ নতুন অবতারে ধরা দিচ্ছে বিজেপি। আক্রমণাত্মক মেজাজ থাকলেও কৌশলে এসেছে আকাশ-পাতাল বদল।
একনজরে দেখে নিন ২০২১ বনাম ২০২৬—বিজেপির প্রচার কৌশলে ঠিক কী কী পরিবর্তন এল:
১. মমতা নয়, নিশানায় এবার ‘ভাইপো’ ও তৃণমূলের সিস্টেম
২০২১ সালে নরেন্দ্র মোদীর সেই বহুল আলোচিত ‘দিদি ও দিদি’ ডাক উল্টো ফল দিয়েছিল বলে মনে করে রাজনৈতিক মহল। এতে মমতার প্রতি মানুষের আবেগ বাড়ে। ২০২৬-এ তাই সুর বদলেছে বিজেপি। এবার মোদী-শাহের নিশানায় সরাসরি মমতা নন, বরং তৃণমূলের অন্দরমহল ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শাহের হুঙ্কার, “তৃণমূলকে ভোট দেওয়া মানেই পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ভাইপোকে বেছে নেওয়া।” অর্থাৎ, লড়াইটা এবার ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং এক বিশেষ ‘সিস্টেম’-এর বিরুদ্ধে।
২. রাম থেকে মা কালী ও মাছ-ভাত
২০২১-এ বিজেপির অন্যতম অস্ত্র ছিল ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান। কিন্তু বাঙালির সংস্কৃতিতে রামের চেয়ে শক্তি আরাধনার গুরুত্ব বেশি। তাই এবার মোদী-শাহের মুখে শোনা যাচ্ছে ‘জয় মা কালী’। শুধু তাই নয়, ‘বিজেপি এলে মাছ খাওয়া বন্ধ হবে’—তৃণমূলের এই প্রচার রুখতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে বিজেপি। প্রাক্তন মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরের সর্ষে-ইলিশ খাওয়া থেকে শুরু করে মোদীর ঝালমুড়ি—বাঙালিয়ানার সঙ্গে মিশে যাওয়ার মরিয়া চেষ্টা স্পষ্ট।
৩. ‘বহিরাগত’ তকমা ঘুচাতে বাঙালি আবেগ
বিজেপি হিন্দিভাষীদের দল—তৃণমূলের এই তকমা মুছতে এবার স্মৃতি ইরানিকে তুরুপের তাস করেছে বিজেপি। পানিহাটির সভায় ঝরঝরে বাংলায় কথা বলে স্মৃতি মনে করিয়ে দিলেন, তিনি আদতে ‘বাগচী বাড়ির মেয়ে’। বাংলার সঙ্গে তাঁর নাড়ির টান তুলে ধরে ভোটারদের ঘরের লোক হওয়ার চেষ্টা করেছেন এই বর্ষীয়ান নেত্রী।
৪. লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পাল্টা ৩ হাজার টাকা ও নারী সুরক্ষা
২০২১-এ মমতার ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ গেম-চেঞ্জার প্রমাণিত হয়েছিল। ২০২৬-এ বিজেপি সেই পথেই হাঁটল। মমতা টাকা বাড়িয়ে ১৫০০ করলেও বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ক্ষমতায় এলে মহিলাদের মাসে ৩০০০ টাকা দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি আর জি কর কাণ্ডকে সামনে রেখে নির্যাতিতার মা-কে প্রার্থী করা থেকে শুরু করে সন্দেশখালি বা কসবার ঘটনা তুলে ধরে মহিলা ভোটারদের ‘সুরক্ষা’ ও ‘আবেগ’-কে হাতিয়ার করেছে গেরুয়া ব্রিগেড।