মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়কে কুরুচিকর পোস্ট, কড়া পদক্ষেপ নিলো নির্বাচন কমিশন

ভোটযুদ্ধের আবহে এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে সমাজমাধ্যমে কুরুচিকর মন্তব্যের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। উত্তরপ্রদেশের এক স্বঘোষিত ‘বিজেপি সমর্থক’ ও ‘ডানপন্থী জাতীয়তাবাদী’ যুবকের অত্যন্ত আপত্তিকর একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। সোমবার নির্বাচন কমিশনের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখে পুলিশকে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
রবিবার রাতে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করা হয়। সেখানে দেখা যায়, এক ব্যক্তি মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে অত্যন্ত কদর্য, নোংরা এবং অপমানজনক মন্তব্য করেছেন। তৃণমূলের দাবি, ওই ব্যক্তি উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা এবং নিজেকে বিজেপি সমর্থক হিসেবে পরিচয় দেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে রাজনৈতিক মহলে।
আইনি ব্যবস্থা ও পুলিশের তৎপরতা
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ জানানোর পর ইতিমধ্যেই বিতর্কিত পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এখানেই শেষ নয়:
-
তৃণমূল সদস্য নীলাঞ্জন দাস বিধাননগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটে এফআইআর দায়ের করেছেন।
-
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশের পর পুলিশ ওই সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টটি খতিয়ে দেখছে।
-
দোষীকে চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতারির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক বলেন, “নির্বাচনের সময় কোনো পদস্থ ব্যক্তিত্ব বা মহিলার সম্মানহানি করা বরদাস্ত করা হবে না। আমরা পুলিশকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে বলেছি।”
ভোটের মুখে উত্তপ্ত বাংলা
আগামী বুধবার, ২৯ এপ্রিল রাজ্যের ১৪২টি আসনে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। তার ঠিক আগেই এই ধরণের কুরুচিকর পোস্টকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে নতুন করে দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছে। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট শেষ হয়েছে এবং আগামী ৪ মে জানা যাবে বাংলার ক্ষমতা কার হাতে থাকছে। তবে তার আগে এই ‘সাইবার যুদ্ধ’ এবং কমিশনের কড়া পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।