ইরানের শান্তি প্রস্তাব ওড়ালেন ট্রাম্প! হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সেনার অবরোধ জারি, যুদ্ধের মুখে বিশ্ব অর্থনীতি?

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধের মেঘ কাটার যে ক্ষীণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা এক ঝটকায় ধুলিসাৎ করে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) খুলে দেওয়ার বিনিময়ে অবরোধ তোলার যে প্রস্তাব পাকিস্তান মারফত ইরান পাঠিয়েছিল, তা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে হোয়াইট হাউস। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির দীর্ঘ বৈঠকের পর ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—ইরানের এই শর্ত মার্কিন প্রশাসনের কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
কেন ভেস্তে গেল জট কাটার চেষ্টা?
আমেরিকান সেনার অবরোধের জেরে ইরানের সমস্ত বন্দরে বর্তমানে জাহাজ চলাচল স্তব্ধ। এর ফলে ব্যাপক আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছে তেহরান। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ইরান প্রস্তাব দিয়েছিল:
-
আমেরিকা তাদের ওপর থেকে অবরোধ (Blockade) তুলে নিলে তারা হরমুজ প্রণালীতে বিধিনিষেধ শিথিল করবে।
-
তবে শর্ত হিসেবে ইরান জানিয়েছিল, তারা কোনোভাবেই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করবে না।
ঠিক এই জায়গাতেই বেঁকে বসেছেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে কয়েক ঘণ্টার আলোচনার পর ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে ইরানকে এগিয়ে যেতে দেওয়া মানেই গোটা বিশ্বের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া।
আমেরিকার অনড় অবস্থান
মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও এই প্রসঙ্গে বলেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো ইরান যেন কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হতে না পারে।” ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার আশা আপাতত বিশ বাঁও জলে।
কূটনৈতিক লড়াইয়ে পাশে রাশিয়া
আমেরিকার চাপে কোণঠাসা ইরান অবশ্য হাল ছাড়ছে না। কূটনৈতিক আলোচনার দরজা খোলা রেখে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর সমর্থন আদায়ের চেষ্টায় রয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ওমান সফর শেষ করে সোমবার তিনি মস্কোয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে আরাঘচি দাবি করেছেন, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মস্কো তাদের পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। রাশিয়া সফর সেরে তিনি ফের পাকিস্তানে গিয়েছেন বলে খবর।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের তেল ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবাহিত হয়। ফলে আমেরিকা ও ইরানের এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরণের আর্থিক সংকটের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।