ছাত্রের প্রেমে মজেছেন ৬০ বছরের শিক্ষিকা! বিয়ের প্রস্তাবে যুবক যা বলল, শুনে চোখে জল নেটিজেনদের!

ভালোবাসা কি সত্যিই কোনো সীমানা বা বয়সের গণ্ডি মানে? জাপানের এক অনন্য প্রেমের গল্প যেন সেই চিরন্তন সত্যকেই আবারও প্রমাণ করল। দীর্ঘ ২০ বছরের একাকিত্ব এবং তিনটি ব্যর্থ বিয়ের গ্লানি মুছে দিয়ে ৬০ বছর বয়সী এক জাপানি নারী খুঁজে পেলেন তাঁর জীবনসঙ্গীকে, যিনি বয়সে তাঁর চেয়ে ৩৪ বছরের ছোট! গুরু-শিষ্যের এই প্রেমকাহিনি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
মঞ্চের আলো বনাম জীবনের অন্ধকার
পূর্ব জাপানের ইবারাকি প্রিফেকচারের বাসিন্দা এই নারী পেশায় একজন জনপ্রিয় নৃত্য প্রশিক্ষক। জাপানের ঐতিহ্যবাহী মঞ্চ নৃত্যশৈলী ‘তাইশু এঙ্গেকি’-র চর্চায় জীবন উৎসর্গ করেছেন তিনি। মায়ের শুরু করা ‘সুবাকি’ নাট্যদল পরিচালনা করতে গিয়ে মঞ্চে হাজারো মানুষের হাততালি পেলেও, নেপথ্যে তাঁর জীবন ছিল নিঃসঙ্গ। তিনটি বিবাহবিচ্ছেদের পর গত দুই দশক ধরে তিনি একাই ছিলেন। ভেবেছিলেন, হয়তো ভালোবাসার অধ্যায় তাঁর জীবনে চিরতরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
যেভাবে শুরু রূপকথার
গল্পে টুইস্ট আসে যখন ২৬ বছর বয়সী এক যুবক জাপানি শিল্পের প্রতি অনুরাগী হয়ে ‘সুবাকি’ দলে যোগ দিতে আসেন। শুরুটা হয়েছিল গুরু আর শিষ্যের সাধারণ সম্পর্ক দিয়ে। নাটকের মঞ্চে তাঁরা প্রায়ই নায়ক-নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করতেন। সেই অভিনয় করতে করতেই কখন যে বাস্তবের হৃদস্পন্দন মিলেমিশে এক হয়ে যায়, তা তাঁরা নিজেরাও বুঝতে পারেননি। মাত্র তিন দিনের আলাপেই নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করেন ওই নারী।
“ডায়াপার বদলানো পর্যন্ত যত্ন নেব!”
এক রঙিন আতশবাজি উৎসবের রাতে যুবকটি তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রস্তাবটি দেন। তিনি বলেন, “আমি সারাজীবন আপনাকে রক্ষা করব। এমনকি বার্ধক্যে আপনার ডায়াপার বদলানোর প্রয়োজন হলেও আমি হাসিমুখে আপনার যত্ন নেব।” এই অকৃত্রিম নিষ্ঠা দেখে আর ফিরিয়ে দিতে পারেননি ওই নারী।
পরিবারের দেওয়াল ও মধুর পরিণতি
এই মিলন সহজ ছিল না। মজার বিষয় হলো, কনে তাঁর হবু শাশুড়ির চেয়েও ৯ বছরের বড়! স্বাভাবিকভাবেই ছেলের পরিবার প্রথমে প্রবল আপত্তি জানিয়েছিল। কিন্তু যুবকের অটল জেদ আর ভালোবাসার কাছে হার মানতে বাধ্য হয় তাঁরা। বর্তমানে তাঁদের পারিবারিক রসায়ন এতটাই মধুর যে, শাশুড়ি তাঁর ছেলের বউকে নিজের ‘বড় বোন’ মনে করেন এবং ননদেরা তাঁকে ‘দ্বিতীয় মা’ হিসেবে সম্মান দেন।
পরিচয় গোপন রেখে একটি টিভি অনুষ্ঠানে নিজেদের এই রোমাঞ্চকর সফরের কথা জানান দম্পতি। তাঁদের এই গল্প প্রমাণ করে দিল, প্রকৃত ভালোবাসা কেবল রূপ বা বয়সে নয়, লুকিয়ে থাকে একে অপরের প্রতি নিঃস্বার্থ যত্নে।