গুরুগ্রামে বুলডোজার আতঙ্ক! সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা বাসিন্দাদের, এবার কি হবে হাজার হাজার পরিবারের?

গুরুগ্রামের সেক্টর ৩১-এ চলমান বড় মাপের উচ্ছেদ অভিযান ও ভাঙার কাজ নিয়ে চলা আইনি লড়াইয়ে নতুন মোড়। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট এই উচ্ছেদ অভিযানে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেছে। তবে শীর্ষ আদালত আবেদনকারীদের অবিলম্বে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একইসাথে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করা হয়েছে, যেন আজ দুপুর ১টা বা মধ্যাহ্নভোজের বিরতির ঠিক পরেই বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে শোনা হয়।
সুপ্রিম কোর্টে কী যুক্তি দিলেন বাসিন্দারা?
সিনিয়র অ্যাডভোকেট গোপাল শঙ্করনারায়ণন বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চের কাছে দাবি করেন:
গুরুগ্রামে কোনো আগাম ‘কারণ দর্শানোর নোটিশ’ (Show Cause Notice) ছাড়াই বসতবাড়ি ভাঙা হচ্ছে।
হাইকোর্টের একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের অপব্যবহার ও ভুল ব্যাখ্যা করে এই উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন।
প্রায় ১৫০০ পরিবার, যারা তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সেখানে বসবাস করছেন, তারা এখন গৃহহীন হওয়ার আশঙ্কায়।
আদালতের কড়া অবস্থান: কেন হস্তক্ষেপ নয়?
শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত সাফ জানান, এগুলো যদি অনুমোদনহীন নির্মাণ হয় এবং হাইকোর্ট যদি তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে, তবে শীর্ষ আদালত সরাসরি এতে হস্তক্ষেপ করবে না। শঙ্করনারায়ণন পাল্টাযুক্তি দিয়ে বলেন যে নির্মাণগুলো আইনসম্মত ছিল, যার উত্তরে প্রধান বিচারপতি বলেন, এই যুক্তিগুলো শুধুমাত্র হাইকোর্টেই পেশ করা উচিত।
আসল বিতর্ক: ‘স্টিল্ট + ৪’ নীতি ও ভুল ব্যাখ্যা
পুরো ঘটনার সূত্রপাত হাইকোর্টের ২ এপ্রিলের একটি নির্দেশকে কেন্দ্র করে। সেখানে ‘স্টিল্ট + ৪’ (S+4) নির্মাণ নীতির ওপর রাজ্যব্যাপী স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছিল। বাসিন্দাদের (RWA) অভিযোগ:
১. প্রশাসন এই স্থগিতাদেশকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করে যথেচ্ছ ভাঙচুর চালাচ্ছে।
২. ১৬ এপ্রিল জারি করা এক নির্দেশিকায় সীমানা প্রাচীর, র্যাম্প এবং সবুজ এলাকা ভেঙে ফেলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা হাইকোর্টের আদেশের মূল উদ্দেশ্যের বাইরে।
৩. কোনো আইনি প্রক্রিয়া বা শুনানির সুযোগ না দিয়েই বুলডোজার চালানো হচ্ছে।
এখন সবার নজর পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের দিকে। দুপুরের জরুরি শুনানিতে আদালত কি উচ্ছেদ অভিযানে স্থগিতাদেশ দেবে, নাকি গুরুগ্রামের বাসিন্দাদের ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্ক আরও বাড়বে—তা সময়ের অপেক্ষা।