ভস্মীভূত ৭০টি কুঁড়েঘর! হাপুরে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড, ১০ কিমি দূর থেকে দেখা গেল কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী

উত্তর প্রদেশের হাপুর জেলার পিলখুয়া থানা এলাকায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছাই হয়ে গেল অন্তত ৭০টি কুঁড়েঘর। আজ সকালে মোদিনগর রোডের একটি টেক্সটাইল কারখানার পাশের বস্তিতে এই আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের শিখা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে এবং আশেপাশের গুদাম ও কারখানাগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, প্রায় ১০ কিলোমিটার দূর থেকেও কালো ধোঁয়ার মেঘ দেখা যাচ্ছিল।
দাহ্য পদার্থে দ্রুত ছড়ালো আগুন:
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, সকাল ৯টা নাগাদ বস্তির একটি অংশ থেকে প্রথম ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। বস্তিতে মজুত থাকা প্লাস্টিক, পলিথিন এবং শুকনো কাঠের কারণে আগুন দ্রুত বিধ্বংসী চেহারা নেয়। আগুন অদূরে থাকা গায়ত্রী লজিস্টিকস ট্রান্সপোর্ট, ইউনাইটেড ট্রান্সপোর্ট এবং একটি জিন্স সেলাই কারখানায় ঢুকে পড়ে। গুদামগুলিতে মজুত থাকা কয়েকশো গাঁট বস্ত্র ও অন্যান্য মূল্যবান পণ্য পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
বাংলার শ্রমিকদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল:
সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, এই বস্তিতে বসবাসকারী অনেক পরিবারই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। লোকসভা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য তাঁরা বর্তমানে বাংলায় রয়েছেন। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে আগুনে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, জমানো নগদ টাকা এবং শেষ সম্বলটুকু ছাই হয়ে গেল।
উদ্ধারকাজ ও ক্ষয়ক্ষতি:
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিজয়গঞ্জ থানা ও পিলখুয়া থানার পুলিশ এবং দমকলের ৮টি ইঞ্জিন। কয়েক ঘণ্টার আপ্রাণ চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের তৎপরতায় বস্তিবাসীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ায় কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে প্রাথমিক হিসাবে এই দুর্ঘটনায় কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তদন্তে প্রশাসন:
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সার্কেল অফিসার অনিতা চৌহান। তিনি জানান, “আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় ত্রাণের ব্যবস্থা করা হবে।”
বর্তমানে পিলখুয়া এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সর্বস্ব হারানো মানুষগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে সরকারি সাহায্যের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।