রেল গেট আছে কিন্তু কর্মী নেই! গ্রামবাসীদের প্রাণ বাঁচাতে প্রতিদিন ঝান্ডা হাতে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন এই সরপঞ্চ

বর্তমান যুগে যেখানে প্রযুক্তির জয়জয়কার, সেখানে পাঞ্জাবের হোশিয়ারপুর জেলার বাসিয়ালা গ্রামে দেখা গেল এক আদিম ও লড়াইয়ের ছবি। গ্রামের মাঝখান দিয়ে চলে গিয়েছে রেললাইন, আছে গেটও—কিন্তু সেই গেট ফেলার জন্য নেই কোনও সরকারি কর্মী। অগত্যা গ্রামের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজের কাঁধেই সেই দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন সরপঞ্চ গুরদেব সিং।

প্রতিবাদের পর খুলেছে গেট, মেলেনি রক্ষী:
গড়শঙ্কর তহসিলের এই রাস্তাটি রাহোন এবং জয়জোঁ দোয়াবাকে সংযুক্ত করে। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ এবং প্রচুর যানবাহন এই ক্রসিং পারাপার করে। রেল কর্তৃপক্ষ প্রথমে এই ক্রসিংটি বন্ধ করে দিলেও গ্রামবাসীদের দীর্ঘ আন্দোলনের চাপে তা খুলে দিতে বাধ্য হয়। কিন্তু গেট খোলার অনুমতি দিলেও সেখানে কোনও ‘গেটম্যান’ বা কর্মী নিয়োগ করেনি রেল।

গ্রামবাসীদের চাঁদায় কেনা গেট:
যাত্রীদের জীবন বাঁচাতে গ্রামবাসীরা নিজেরাই চাঁদা তুলে একটি লোহার গেট তৈরি করেন। কিছুদিনের জন্য একজন কর্মীকে মাসোহারা দিয়ে রাখা হলেও টাকার অভাবে তিনি কাজ ছেড়ে দেন। রেলের দুয়ারে বারবার কড়া নেড়েও যখন কোনও সুরাহা হয়নি, তখনই ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন সরপঞ্চ গুরদেব সিং।

দোকান ছেড়ে লাইনে সরপঞ্চ:
গুরদেব সিং পেশায় একজন ব্যবসায়ী। দিনে দু’বার যখনই ট্রেন আসার সময় হয়, তিনি নিজের দোকান ফেলে ছুটে যান লাইনের ধারে।

প্রথমে তিনি মোবারকপুর স্টেশনে ফোন করে ট্রেনের অবস্থান জেনে নেন।

ট্রেন আসার ঠিক আগে নিজের হাতে গেট বন্ধ করেন।

এরপর হাতে সবুজ পতাকা নিয়ে ট্রেনের চালককে নিরাপদ যাত্রার সংকেত দেন।

কেন এই লড়াই?
গুরদেব সিংয়ের কথায়, “আমি সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকি যে আমার এলাকায় যেন কোনও বড় দুর্ঘটনা না ঘটে। রেল কর্তৃপক্ষ কানে তুলছে না, কিন্তু আমি তো গ্রামবাসীদের বিপদে ফেলে দিতে পারি না। তাই নিজের দায়িত্বেই এই কাজ করি।”

সরপঞ্চের এই মানবিক উদ্যোগ ও কর্তব্যনিষ্ঠা দেখে একদিকে যেমন গ্রামবাসীরা ধন্য ধন্য করছেন, অন্যদিকে রেলের এই চরম অব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ তুঙ্গে।