থানা-পুলিশ ছাড়াই কাটছে বছর! গুজরাটের এই ১১টি গ্রামে বিচার মেলে মাত্র ১২ টাকা ৫০ পয়সায়!

আধুনিক যুগে যেখানে জমিজমা বা পারিবারিক বিবাদ মানেই বছরের পর বছর আদালতের চক্কর আর উকিলের খরচ, সেখানে অনন্য নজির গড়ল গুজরাটের ভালসাদ জেলা। কাপরাদা ও ধরমপুর তালুকের এগারোটি গ্রাম এখন দেশজুড়ে চর্চায়। কারণ, এই গ্রামগুলোতে বিবাদ মেটাতে থানা বা আদালতের প্রয়োজন পড়ে না। গত ৫ বছরে এখান থেকে একটিও মামলা পুলিশের কাছে পৌঁছায়নি! অনন্য এই কৃতিত্বের জন্য রাজ্য সরকার গ্রামগুলোকে ‘তীর্থগ্রাম’ পুরস্কারে ভূষিত করেছে।

রবিবার মানেই ‘ইনসাফ’: কীভাবে চলে বিচার?
স্থানীয় আদিবাসী ওয়ারলি সম্প্রদায়ের মধ্যে ১০০০ বছরেরও বেশি পুরনো ‘পাঞ্জ’ প্রথা আজও অমলিন। প্রতি রবিবার এখানে পঞ্চায়েত সভা বসে।

অভিযোগ: জমি সংক্রান্ত ঝামেলা, পারিবারিক অশান্তি বা প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে প্রথমে গ্রামপ্রধানের কাছে আবেদন জানানো হয়।

প্রক্রিয়া: আদালতের মতোই দুই পক্ষ থেকে পাঁচজন করে সদস্য উপস্থিত থাকেন। উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর সর্বসম্মতিক্রমে রায় দেওয়া হয়।

আস্থা: আশ্চর্যের বিষয় হলো, পঞ্চায়েতের রায় উভয় পক্ষই মাথা পেতে নেয়। কেউ আর উচ্চতর কোনো আইনের দরজায় কড়া নাড়ে না।

মাত্র ১২.৫০ টাকায় ডিভোর্স!
শুনতে অবাক লাগলেও এই গ্রামগুলোতে বিবাহবিচ্ছেদের মতো জটিল বিষয়ও মাত্র ১২ টাকা ৫০ পয়সায় মিটিয়ে ফেলা হয়। ইতিহাসবিদ অধ্যাপক বি এন যোশীর মতে, খরচ বাঁচানোর চেয়েও বড় বিষয় হলো সামাজিক সম্মান ও সংহতি। এমনকি ভাঙা পরিবারকে জোড়া লাগাতেও বিশেষ ভূমিকা নেয় এই সভা। কোনো প্রেমঘটিত বিবাদ সামনে এলে পঞ্চায়েত দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের ব্যবস্থাও করে দেয়।

২০০০ মামলার নিষ্পত্তি বছরেই
বামতি-রানপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সরপঞ্চ বিজয় পানেরিয়া জানিয়েছেন, কাপরাদা ও ধরমপুরের প্রায় ১৩৬টি গ্রামে প্রতি বছর গড়ে ২,০০০-এর বেশি মামলার সমাধান হয় গ্রামেই। গ্রামবাসীদের সাফ কথা— “আমরা থানার সিঁড়ি ভাঙতে চাই না, নিজেদের বিবাদ গ্রামেই মেটাতে চাই।” গুজরাটের এই ‘মডেল’ আজ প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, ঐতিহ্য ও পারস্পরিক সংহতি বজায় রাখলে আইনি জটিলতা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়া সম্ভব।