মিষ্টি নয়, এক টুকরো চিঠি! কন্যাসন্তানের জন্মে এইমস ডাক্তারদের এমন কী উপহার দিলেন বাবা? আবেগপ্রবণ নেট দুনিয়া

সাধারণত সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে অভিযোগের শেষ থাকে না। কিন্তু মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালের এইমস হাসপাতাল সাক্ষী থাকল এক পজিটিভ গল্পের। এক সদ্যোজাতর বাবা তাঁর মেয়ের জন্ম উপলক্ষে চিকিৎসকদের যে উপহার দিলেন, তা পেশাদারিত্বের ঊর্ধ্বে গিয়ে মানবিকতাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
অগ্নিপরীক্ষার সেই ২৪ ঘণ্টা:
গত ৭ই এপ্রিল প্রিয়াঙ্কা সেনের শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে চিকিৎসকরা অবিলম্বে প্রসবের সিদ্ধান্ত নেন। স্বামী হেমন্ত সেন তখন ভয়ে কাঁটা হয়ে ছিলেন। তাঁর কথায়, “সেই মুহূর্তে আমি ভীষণ আতঙ্কিত ছিলাম। কিন্তু পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা ডাক্তার এবং নার্সিং স্টাফরা যেভাবে লড়াই করেছেন, তা আমার দেখার চোখ বদলে দিয়েছে।”
শুভেচ্ছা কার্ডে লুকানো কৃতজ্ঞতা:
কন্যা যতিকার জন্মের পর হেমন্ত মিষ্টি বিলি করার চেনা পথে হাঁটেননি। তিনি নিজের হাতে একটি সুন্দর ‘ধন্যবাদ কার্ড’ এবং চিঠি ডিজাইন করেন। সেখানে মেয়ের ছবি আর জন্মের সময় উল্লেখ করে তিনি স্ত্রী-রোগ বিভাগের প্রধান ডা. শ্বেতা প্যাটেল, ডা. বিজেন্দর সিং এবং পুরো নার্সিং টিমকে কৃতজ্ঞতা জানান।
বাবার খোলা চিঠি:
হেমন্তের সেই চিঠিতে ছিল এক মেয়ের বাবার অটল বিশ্বাস। তিনি লিখেছেন:
“অনেকেই কন্যাসন্তানের জন্মে আজও খুশি হন না, কিন্তু আমার কাছে ছেলে-মেয়ে সমান। এখানকার মহিলা ডাক্তারদের দায়িত্ববোধ দেখে আমি গর্বিত। আমার একটাই ইচ্ছা, যতিকাও যেন বড় হয়ে ডাক্তার হয়ে এভাবেই মানুষের সেবা করে।”
হাসপাতালে খুশির হাওয়া:
রোগীর আত্মীয়দের কাছ থেকে এমন সম্মান ও ভালোবাসা পেয়ে আবেগাপ্লুত হাসপাতালের কর্মীরা। যেখানে সামান্য ত্রুটিতে ডাক্তারদের হেনস্থা হতে হয়, সেখানে হেমন্তের এই বিনম্র আচরণ চিকিৎসকদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবর্তনশীল সমাজের এই সুন্দর ছবি আমাদের শেখায়, বিশ্বাস আর সম্মান থাকলে হাসপাতালের সাদামাটা দেওয়ালগুলোও উৎসবের আঙিনা হয়ে উঠতে পারে।