আইআইটি পাস, কোটি টাকার চাকরি! তবুও বিয়ের জন্য ‘কুমারী’ পাত্রী চাই ডিভোর্সি বরের, নেটপাড়ায় তুলকালাম

৩৭ বছর বয়স, আইআইটি (IIT) স্নাতক এবং একটি বিলিয়ন ডলার কোম্পানির ডিরেক্টর। আপাতদৃষ্টিতে সমাজের চোখে অত্যন্ত সফল ও উচ্চশিক্ষিত এই ব্যক্তির বিয়ের পাত্রী খোঁজার ‘আজব’ শর্ত নিয়ে এখন তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া। ডেটিং কোচ এবং ম্যাচমেকার ঐন্দ্রিলা কাপুরের একটি পোস্ট এই চাঞ্চল্যকর মানসিকতাকে সামনে এনেছে, যা দেখে স্তম্ভিত আধুনিক সমাজ।

শর্ত যখন ‘ভার্জিনিটি’ ও ‘বডি কাউন্ট শূন্য’
ঐন্দ্রিলা কাপুরের কাছে পাত্রী খুঁজতে আসা ওই ব্যক্তির শর্তগুলো ছিল রীতিমতো তাজ্জব করার মতো:

বয়স: পাত্রীর বয়স ৩০-এর নিচে হতে হবে।

জাত: অবশ্যই হতে হবে রক্ষণশীল ব্রাহ্মণ পরিবারের মেয়ে।

অতীত: পাত্রী যেন আগে কখনও কোনো সম্পর্কে না জড়ান। সহজ কথায়, তাঁর ‘বডি কাউন্ট’ বা যৌন সঙ্গীর সংখ্যা হতে হবে শূন্য।

“পুরুষ আর নারী কি এক?” – যুবকের বিস্ফোরক যুক্তি
ম্যাচমেকার ঐন্দ্রিলা যখন এই অন্যায্য শর্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন ওই যুবক এক অদ্ভুত বৈজ্ঞানিক যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর কাছে নাকি ‘গবেষণা’ আছে যে, যেসব মহিলার অতীতে একাধিক সঙ্গী ছিল, তাঁদের ভবিষ্যতে প্রতারণা করার প্রবণতা বেশি!

যখন ঐন্দ্রিলা পাল্টা প্রশ্ন করেন, “আপনি নিজেও তো ডিভোর্সি, তবে আপনার ক্ষেত্রে এই নিয়ম খাটে না কেন?” তখন যুবকের উত্তর ছিল আরও বিস্ফোরক। তিনি সপাটে বলেন, “না, এটা সঠিক তুলনা নয়। কারণ আমি একজন পুরুষ!” অর্থাৎ, নিজের ক্ষেত্রে ডিভোর্স বা অতীত থাকা গ্রাহ্য হলেও, স্ত্রীর ক্ষেত্রে তিনি আদিম বিশুদ্ধতা চান।

ক্লায়েন্ট ফিরিয়ে দিলেন ঐন্দ্রিলা
ঐন্দ্রিলা কাপুর ওই যুবককে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, যে ধরণের রক্ষণশীল পরিবার তিনি খুঁজছেন, তারা কোনোদিন একজন ৩৭ বছর বয়সী ডিভোর্সি পুরুষের হাতে মেয়ে দেবে না। শেষ পর্যন্ত ঐন্দ্রিলা তাঁকে ক্লায়েন্ট হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন এবং সোজাসুজি বলেন, “আমার মনে হয় না আপনার সঙ্গে কেউ জালিয়াতি করছে, বরং আপনার এই আদিম মানসিকতা দিয়ে আপনিই ওই মেয়েদের সঙ্গে প্রতারণা করবেন।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ইন্টারনেটে বিতর্কের বন্যা বয়ে গিয়েছে। নেটিজেনদের বড় অংশই এই উচ্চশিক্ষিত ডিরেক্টরের মানসিকতাকে ‘ভণ্ডামি’ এবং ‘চরম পিতৃতান্ত্রিক’ বলে দাগিয়ে দিয়েছেন। তাঁদের মতে, শিক্ষা মানুষের ডিগ্রিতে থাকলেও চিন্তাভাবনায় এখনও অনেক অন্ধকার রয়ে গিয়েছে। তবে একদল পুরুষ আবার দাবি করেছেন, এটি তাঁর ‘ব্যক্তিগত পছন্দ’। সব মিলিয়ে, আধুনিক ডেটিং আর রক্ষণশীলতার এই লড়াই এখন টক-অফ-দ্য-টাউন।