পুতিনের কোষাগারে টান? যুদ্ধ সামলাতে টন টন সোনা বিক্রি করছে রাশিয়া!

ইউক্রেন যুদ্ধের পঞ্চম বছরে এসে রাশিয়ার অর্থনীতি কি তবে খাদের কিনারায়? ভ্লাদিমির পুতিন সরকারের সাম্প্রতিক একটি পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে সেই জল্পনাকেই উসকে দিয়েছে। ক্রমবর্ধমান যুদ্ধের খরচ এবং আকাশছোঁয়া বাজেট ঘাটতি সামাল দিতে ২০২৬ সালের শুরুতেই প্রায় ২২ টন (২১.৮ টন) সোনা বিক্রি করেছে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

রেকর্ড বাজেট ঘাটতি ও সোনার বাজার
২০২৬ সালের মার্চ মাস শেষ হতেই দেখা গেছে রাশিয়ার বাজেট ঘাটতি ৬১.২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই বিপুল আর্থিক চাপ সামলাতেই রিজার্ভ থেকে সোনা সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মস্কো। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী:

১ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত রাশিয়ার সোনার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২,৩০৪.৭৬ টনে।

শুধুমাত্র মার্চ মাসেই রিজার্ভ থেকে কমেছে ৬.২২ টন সোনা।

মস্কো এক্সচেঞ্জে সোনার লেনদেনের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় ৩৫০% বৃদ্ধি পেয়ে ৪২.৬ টনে পৌঁছেছে।

কেন এই চরম সিদ্ধান্ত?
প্রতিরক্ষা খাতে লাগামহীন ব্যয়, জ্বালানি সংকট এবং রুবলের ক্রমাবনতি রুশ অর্থনীতিকে নাজেহাল করে তুলেছে। মজার বিষয় হলো, সোনা বিক্রি করলেও আন্তর্জাতিক বাজারে এর দাম রেকর্ড স্তরে থাকায় লাভবান হচ্ছে রাশিয়া। জানুয়ারিতে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫,৫০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে প্রায় ৩ লক্ষ আউন্স সোনা বিক্রি করে পুতিন সরকার ১.৪ থেকে ১.৬৮ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে।

অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও চীন সংযোগ
অর্থনৈতিক অস্থিরতার মাঝে রাশিয়ার সাধারণ মানুষও এখন সঞ্চয়ের জন্য সোনার ওপর ভরসা রাখছেন। ২০২৪ সালে রুশ নাগরিকরা রেকর্ড ৭৫.৬ টন সোনা ব্যক্তিগতভাবে ক্রয় করেছিলেন। পাশাপাশি চীনের সাথেও রাশিয়ার সোনা বাণিজ্যের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে বেইজিংয়ে রাশিয়ার মূল্যবান ধাতু রপ্তানি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে রাশিয়া তার সোনা মজুত শক্তিশালী করলেও বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি মস্কোকে এই সম্পদ হাতছাড়া করতে বাধ্য করছে। প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি খাতের ব্যয় মেটাতে রাশিয়ার এই ‘গোল্ড রাশ’ বিশ্ব অর্থনীতির মানচিত্রে নতুন কোনো সংকটের ইঙ্গিত কি না, তা নিয়ে এখন তুঙ্গে বিতর্ক।