বিশ্বযুদ্ধে কি এবার পরমাণু অস্ত্র? ট্রাম্পের বয়ান আর ১০৫ ডলারের তেল— মহাপ্রলয়ের মুখে দাঁড়িয়ে পৃথিবী!

বিশ্বজুড়ে ঘনিয়ে আসছে যুদ্ধের ঘন কালো মেঘ। ইরান ও আমেরিকার সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ব্যারেল প্রতি ১০৫.৫০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জোগানে টান পড়েছে, যার প্রভাবে খুব শীঘ্রই পকেটে টান পড়তে চলেছে সাধারণ মানুষের। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য এবং আমেরিকার রণতরী মোতায়েন বিশ্ব রাজনীতিকে খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
ট্রাম্পের ‘নরক’ তোপ ও ইরানের পাল্টা জবাব
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত ও চীনকে ‘নরক’ বলে আক্রমণ করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তাঁর দাবি, এই সব দেশের অভিবাসীরা নাগরিকত্বের সুযোগ নিয়ে আমেরিকাকে সমস্যায় ফেলছে।
এর পাল্টা দিতে ছাড়েনি ইরান। হায়দরাবাদের ইরানি দূতাবাস কড়া ভাষায় জানিয়েছে, “ভারত বা চীন নয়, বরং সেই দেশই নরক যার প্রেসিডেন্ট অন্য সভ্যতা ধ্বংস করার হুমকি দেন।” দিল্লির পক্ষ থেকেও ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কড়া নিন্দা করা হয়েছে।
সমুদ্রে মোতায়েন ৩টি ‘দানবীয়’ যুদ্ধজাহাজ
ইরানকে চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলতে পশ্চিম এশিয়ার সমুদ্রে তিনটি প্রকাণ্ড যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে আমেরিকা।
ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ: বিমানবাহিনী নিয়ে ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছে।
ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড: আগে থেকেই লোহিত সাগরে মোতায়েন।
ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন: অন্য একটি রণকৌশলগত অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে।
পরমাণু বোমা কি ব্যবহার হবে?
ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু বোমা ব্যবহারের কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই। তাঁর দাবি, আমেরিকার সাধারণ অস্ত্রশস্ত্র দিয়েই ইরানের নৌ ও বায়ুসেনাকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের কথায়, “পারমাণবিক অস্ত্রের কী দরকার? ওদের যা অবশিষ্ট শক্তি আছে, তা শেষ করতে আমাদের একদিনই যথেষ্ট।”
ভেঙে পড়ছে যুদ্ধবিরতি
শান্তি আলোচনার আবহ তৈরি হলেও বাস্তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন:
লেবাননে বোমাবর্ষণ: ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৩ সপ্তাহ বাড়ানোর ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে বোমা ফেলেছে ইজরায়েলি যুদ্ধবিমান।
শান্তি বৈঠকে ‘না’: পাকিস্তানে আয়োজিত শান্তি বৈঠকে যোগ দিতে অস্বীকার করেছে ইরান।
সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়া এবং ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক মেজাজ বিশ্ব অর্থনীতি ও শান্তিকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।