বিদায় জানাচ্ছে হোন্ডা! ২৩ বছরের সম্পর্কে ইতি টেনে বড় সিদ্ধান্তের ঘোষণা— তোলপাড় অটোমোবাইল দুনিয়া

দীর্ঘ ২৩ বছরের পথচলায় যবনিকা। দক্ষিণ কোরিয়ার বাজার থেকে এবার পাততাড়ি গোটাচ্ছে জাপানি গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা হোন্ডা। সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ দক্ষিণ কোরিয়ায় তাদের যাত্রীবাহী গাড়ি বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। কিন্তু কেন এই হঠাৎ প্রস্থান? আর ভারতের মতো বড় বাজারে এর কোনো আঁচ পড়বে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে জল্পনা।

কেন এই সিদ্ধান্ত?
হোন্ডা কর্তৃপক্ষের মতে, বর্তমান বাজারের আমূল পরিবর্তন এবং মুদ্রার বিনিময় হারের (Exchange Rate) প্রবল চাপই এই নেপথ্যে প্রধান কারণ। এছাড়াও এশীয় বাজারে স্থানীয় এবং বিশেষ করে চিনা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতায় কিছুটা পিছিয়ে পড়ছিল সংস্থাটি। দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে গত কয়েক বছর ধরেই হোন্ডার গাড়ির বিক্রির গ্রাফ ছিল নিম্নমুখী। শেষ পর্যন্ত লোকসান এড়াতে যাত্রীবাহী গাড়ির বিভাগ থেকে সরে আসাই সমীচীন মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

গ্রাহকদের দুশ্চিন্তার কারণ নেই
গাড়ি বিক্রি বন্ধ করলেও হোন্ডা স্পষ্ট জানিয়েছে যে, তারা বাজার থেকে রাতারাতি অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে না। বিদ্যমান গ্রাহকরা আগের মতোই:

আফটার সেলস সার্ভিস বা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ সেবা পাবেন।

যন্ত্রাংশের সরবরাহ বজায় থাকবে।

ওয়ারেন্টি সংক্রান্ত সমস্ত সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
পাশাপাশি, হোন্ডার অত্যন্ত জনপ্রিয় মোটরসাইকেল ব্যবসায় এই সিদ্ধান্তের কোনো প্রভাব পড়বে না। দক্ষিণ কোরিয়ায় বাইক ও স্কুটার বিক্রি আগের নিয়মেই সচল থাকবে।

ভারত কি নিরাপদ?
দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার খবরে ভারতের গাড়ি বাজারেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে সংস্থাটি আশ্বস্ত করেছে যে, ভারতে তাদের ব্যবসায়িক কৌশলে কোনো পরিবর্তন আসছে না। বরং ভারতের বাজার নিয়ে হোন্ডার পরিকল্পনা অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী।

বর্তমানে সংস্থাটি ভারতে তাদের আসন্ন ইলেকট্রিক এসইউভি ‘হোন্ডা ০ আলফা’-এর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। রাজস্থানের তপুকরা প্ল্যান্টে এই গাড়িটি তৈরি হওয়ার কথা রয়েছে, যা বিশ্ববাজারে ভারতের উৎপাদন সক্ষমতাকে আরও মজবুত করবে। এছাড়াও আগামী বছরগুলোতে নতুন এসইউভি (SUV) এবং হাইব্রিড মডেল বাজারে আনার জন্য বড় বিনিয়োগের পথে হাঁটছে হোন্ডা।

উপসংহার: শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে হোন্ডার সরে আসা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি তাদের ব্যবসায়িক পুনর্গঠনের একটি অংশ। দক্ষিণ কোরিয়ায় বাজার হারালেও ভারত এখন হোন্ডার বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্রের অন্যতম তুরুপের তাস হয়ে উঠছে।