“ওঁরা আত্মহত্যা করেননি!” সুশান্ত-জিয়া মৃত্যু রহস্য নিয়ে বিস্ফোরক তনুশ্রী দত্ত, নিশানায় বলিউডের ‘মাফিয়া রাজ’

বলিউডে ‘মি টু’ (Me Too) আন্দোলনের পথপ্রদর্শক তনুশ্রী দত্ত আবারও এক জ্বলন্ত বিতর্কের জন্ম দিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে সুশান্ত সিং রাজপুত এবং জিয়া খানের মৃত্যু নিয়ে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন তিনি, যা বিটাউনের ভেতরের নোংরা রাজনীতিকে আবারও বেআব্রু করে দিয়েছে। তনুশ্রীর সাফ দাবি, এই দুই প্রতিভাবান শিল্পীর অকালমৃত্যুর পেছনে রয়েছে বলিউডের প্রভাবশালী ‘মাফিয়া’ চক্র।

“আমি বিশ্বাস করি না ওঁরা আত্মহত্যা করেছেন”
সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু নিয়ে আজও রহস্য দানা বেঁধে আছে অনুগামীদের মনে। সেই আগুনেই ঘি ঢেলে তনুশ্রী প্রশ্ন তুলেছেন, সুশান্তের মতো একজন মেধাবী, সফল এবং প্রাণবন্ত মানুষ কেন হঠাৎ করে নিজেকে শেষ করে দেবেন? তিনি বলেন, “কেউ সকালে ঘুম থেকে উঠেই আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয় না। আমি বিশ্বাস করি না ওঁরা আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নিই যে ওঁরা চরম পথ বেছে নিয়েছিলেন, তবে প্রশ্ন ওঠে— কে বা কারা তাঁদের সেই খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছিল?”

নিশানায় উদ্ধত ‘মাফিয়া গোষ্ঠী’
তনুশ্রীর নিশানায় সরাসরি ইন্ডাস্ট্রির সেই প্রভাবশালী গোষ্ঠী, যারা পর্দার পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ে। তাঁর দাবি:

কোণঠাসা করার রাজনীতি: যারা এই চক্রের কথা মতো চলে না বা স্বাধীনভাবে কাজ করতে চায়, তাদেরই পরিকল্পিতভাবে একঘরে করে দেওয়া হয়।

মানসিক হেনস্থা: সুশান্ত ও জিয়ার ক্ষেত্রে পদ্ধতিগতভাবে মানসিক চাপ তৈরি করা হয়েছিল যাতে তাঁরা ভেঙে পড়েন।

অদৃশ্য চাপ: তনুশ্রীর মতে, শুধুমাত্র কাজের অভাব কাউকে মৃত্যুর পথে ঠেলে দেয় না; বরং ইন্ডাস্ট্রির নোংরা রাজনীতিই তাঁদের জীবন কেড়ে নিয়েছে।

পুরনো ক্ষত নতুন করে চাঙ্গা
২০২০ সালে সুশান্তের মৃত্যুর পর বলিউডে ‘নেপোটিজম’ (স্বজনপোষণ) ও ‘ইনসাইডার-আউটসাইডার’ বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছিল। তনুশ্রী মনে করিয়ে দেন, সুশান্ত ও জিয়া দিনের পর দিন যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গেলেও ইন্ডাস্ট্রি তাঁদের কথা শোনার প্রয়োজন মনে করেনি। বলিউডের গভীরে লুকিয়ে থাকা এই ‘অহংকারী’ সিস্টেমের বিরুদ্ধেই এবার সরব হয়েছেন অভিনেত্রী।

তনুশ্রীর এই বিস্ফোরক দাবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই আবারও দ্বিধাবিভক্ত নেটদুনিয়া। একদিকে সুশান্ত-অনুরাগীরা তনুশ্রীকে সমর্থন জানিয়েছেন, অন্যদিকে এই মন্তব্য নতুন কোনো আইনি বা রাজনৈতিক মোড় নেয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে সবাই।