“ভারত শুধু সাপুড়েদের দেশ নয়!” মার্কিন মুলুকে দাঁড়িয়ে পশ্চিমী বিভ্রম ভাঙলেন আরএসএস নেতা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারত সম্পর্কে প্রচলিত বস্তি, দারিদ্র্য আর সাপুড়েদের দেশের ধারণা যে এখন সেকেলে, তা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন আরএসএস-এর সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবালে। হাডসন ইনস্টিটিউটে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ভারত আজ বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি এবং একটি শক্তিশালী প্রযুক্তি কেন্দ্র; কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সাধারণ মার্কিন জনমানসে এই ইতিবাচক পরিবর্তনগুলো প্রায়শই উপেক্ষিত থেকে যায়।
হিন্দুত্বের নয়া ব্যাখ্যা: ধর্ম নয়, সভ্যতা
অনুষ্ঠানে ভারতের ক্রমবর্ধমান ‘হিন্দু পরিচয়’ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে উত্তেজনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হোসাবালে এক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন:
“আরএসএস-এর দৃষ্টিতে হিন্দু পরিচয় কোনো সংকীর্ণ ধর্মীয় পরিচয় নয়, বরং এটি একটি সভ্যতাগত পরিচয় (Civilizational Identity)। আরএসএস সর্বদা সেই সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের ওপর জোর দেয় যা ধর্মের ঊর্ধ্বে।”
তিনি অভিযোগ করেন যে, ভারতকে ইচ্ছাকৃতভাবে সংখ্যালঘু-বিরোধী, নারী-বিরোধী এবং আধুনিকতাবিরোধী হিসেবে তুলে ধরতে একটি নেতিবাচক আখ্যান বা ন্যারেটিভ তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেশী বিতর্ক ও সংঘাতের কারণ
দেশভাগের ক্ষত এবং বর্তমান উত্তেজনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থ এবং ইতিহাসের ভুল ব্যাখ্যার কারণে পারস্পরিক বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি বিশেষ প্রতিবেশী দেশকে (পাকিস্তান) ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “আসল সমস্যাটি সেই দেশকে নিয়ে যা ভারতের নিজের গর্ভ থেকেই জন্ম নিয়েছে, অথচ এখন তারা ভারতকে কেবল হয়রানিই করে যাচ্ছে।”
সংলাপই সমাধানের পথ
দত্তাত্রেয় হোসাবালে জানান, আরএসএস বিশ্বাস করে যে কোনো ভুল বোঝাবুঝি মেটানোর একমাত্র উপায় হলো সংলাপ। সেই লক্ষ্যেই আরএসএস বর্তমানে বিভিন্ন সংখ্যালঘু গোষ্ঠী এবং তাদের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনায় নিযুক্ত রয়েছে।
ভারত-মার্কিন কৌশলগত অংশীদারিত্ব
ভারত কীভাবে তার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারে, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি মার্কিন প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বার্তা দেন। তিনি বলেন, আমেরিকা যদি ভারতের সঙ্গে শক্তিশালী কৌশলগত অংশীদারিত্ব চায়, তবে তা কেবল পারস্পরিক আস্থা এবং সমান সুযোগের ভিত্তিতেই সম্ভব। জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বৃদ্ধি পেলে এই সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলে তিনি মনে করেন।