‘নন্দীগ্রামে হেরেছেন, ভবানীপুরেও হারবেন’, বেহালায় দাঁড়িয়ে মমতাকে ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ খোঁচা শুভেন্দুর!

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের পারদ চড়ল বেহালায়। মঙ্গলবার বেহালা পূর্ব আসনের বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর শিকদারের মনোনয়নকে কেন্দ্র করে শীলপাড়া এলাকায় কার্যত শক্তিপ্রদর্শন করল গেরুয়া শিবির। খোদ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এদিন প্রার্থীর সমর্থনে রোড-শো ও জনসভা করেন। শীলপাড়া থেকে ১৪ নম্বর পর্যন্ত আয়োজিত এই মিছিলে মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

সভা থেকে নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “উনি নন্দীগ্রামেও হেরেছেন, এবার ভবানীপুরেও হারবেন। ওঁর আসল লক্ষ্য গ্রেটার বাংলাদেশ তৈরি করা।” এখানেই শেষ নয়, বেহালার একাধিক কাউন্সিলর ও পুলিশের একাংশকে নিশানা করে তিনি অভিযোগ করেন যে, এই এলাকায় ব্যাপক হারে পুকুর বুজিয়ে প্রোমোটিং চলছে। এক কাউন্সিলরের দুর্নীতির ভিডিওর প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “কাউন্সিলর বলেছিলেন মানহানির মামলা করবেন, আমি দু’বছর ধরে অপেক্ষা করছি, ওঁর দেখা নেই।”

বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর শিকদারকে একজন ‘নিষ্ঠাবান কর্মী’ হিসেবে ব্যাখ্যা করে শুভেন্দু বলেন, “দল কোনো নেতাকে নয়, একজন প্রকৃত সেবককে টিকিট দিয়েছে। এই এলাকাকে চোরেদের হাত থেকে রক্ষা করতে শঙ্করবাবুকে বিপুল ভোটে জেতান।” শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, ৪ঠা জুনের পর সব চুরি, দুর্নীতি এবং বিজেপি কর্মীদের ওপর হওয়া মিথ্যা মামলার হিসাব নেবে মোদি সরকার।

অন্যদিকে, একই দিনে ভবানীপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সকাল ১০:৪৫ নাগাদ ফিরহাদ হাকিমকে সঙ্গে নিয়ে পায়ে হেঁটে আলিপুর সার্ভে বিল্ডিংয়ে পৌঁছান তিনি। একদিকে যখন বেহালায় শুভেন্দুর আক্রমণাত্মক মেজাজ, অন্যদিকে তখন ভবানীপুরে মমতার সমর্থনে জনজোয়ার— সব মিলিয়ে ২০২১-এর পুনরাবৃত্তি কি ২০২৬-এও দেখা যাবে? সেই প্রশ্নই এখন তুঙ্গে।