‘আমরাই সরকার গড়ব’, ভবানীপুরে মনোনয়ন পেশ করেই হুঙ্কার মমতার! জেলবন্দিদের ভোটাধিকার নিয়ে বড় দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের মহাযুদ্ধে নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর থেকে লড়াইয়ের আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ বেলা পৌনে এগারোটা নাগাদ কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে পায়ে হেঁটেই আলিপুর সার্ভে বিল্ডিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। সাদা শাড়ি ও নীল পাড় পরিহিত তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। মুখ্যমন্ত্রীকে একঝলক দেখতে রাস্তার দু’পাশে ভিড় জমিয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ।
মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে বেরিয়েই জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ আত্মবিশ্বাসী দেখাল তৃণমূল সুপ্রিমোকে। চেনা ভঙ্গিতেই তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “আমরাই আবার বাংলায় সরকার গড়ব। মানুষ উন্নয়নের পক্ষেই রায় দেবেন।” তবে এদিন কেবল রাজনৈতিক লড়াই নয়, একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও সাংবিধানিক বিষয়েও সরব হন মমতা। তিনি প্রশ্ন তোলেন বিচারাধীন বন্দিদের ভোটাধিকার নিয়ে। মমতা বলেন, “যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি এবং যাঁরা এখনও বিচারাধীন তালিকায় রয়েছেন, তাঁদের ভোটাধিকার দেওয়া উচিত। এটা তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, বন্দিদের ভোটাধিকার নিয়ে মমতার এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে যখন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বেহালায় দাঁড়িয়ে মমতাকে আক্রমণ করছেন, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে বুঝিয়ে দিলেন তিনি শুধু নিজের জয়ের জন্য লড়ছেন না, বরং বৃহত্তর প্রশাসনিক ও আইনি সংস্কারের পক্ষেও সওয়াল করছেন।
এদিন ভবানীপুরে মমতার এই মনোনয়কে কেন্দ্র করে উৎসবের মেজাজ ছিল তৃণমূল শিবিরে। স্লোগান, উলুধ্বনি আর শঙ্খধ্বনিতে কার্যত ফেটে পড়ে আলিপুর এলাকা। বিরোধীদের পাল্টা আক্রমণ করে তিনি স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাইরের কোনো শক্তি বাংলার মানুষের মনে ফাটল ধরাতে পারবে না। এখন দেখার, ২৩ এপ্রিলের মহারণে ভবানীপুরের জনতা তাঁদের ঘরের মেয়ের পক্ষে কতটা জোরালো রায় দেয়।