জমি বিবাদের খেসারত! বড় ভাইয়ের গুলিতে লুটিয়ে পড়লেন ছোট ভাই, তারপর সোজা এসএসপি অফিসে গিয়ে যা করল সে!

বিহারের বৈশালী জেলায় জমি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিবাদের জেরে এক সাবেক সেনা জওয়ান তাঁর নিজের ছোট ভাইকে অত্যন্ত নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করেছেন। মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে জেলার করতাহা থানার অন্তর্গত ধনুষী গ্রামে। নিহত ছোট ভাইয়ের নাম সোমনাথ সিং এবং অভিযুক্ত বড় ভাই তথা সেনাবাহিনীর প্রাক্তন কর্মী হলেন সুরেশ প্রসাদ সিং। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, নিজের ভাইকে ঠান্ডা মাথায় খুন করার পর অভিযুক্ত বড় ভাই সরাসরি অস্ত্র হাতে নিয়ে জেলা পুলিশ সুপার (SSP) শুভাঙ্ক মিশ্রের কার্যালয়ে গিয়ে নিজে থেকেই আত্মসমর্পণ করেন। এই ঘটনায় পুলিশ মূল অভিযুক্তের স্ত্রীকেও গ্রেপ্তার করেছে।

স্থানীয় সূত্রে এবং পুলিশ প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সুরেশ সিং এবং সোমনাথ সিং একই পৈতৃক বাড়ির ভিন্ন অংশে একসঙ্গে বসবাস করতেন, যদিও তাঁদের তৃতীয় ভাই কৃষ্ণা সিং আলাদা বাড়িতে থাকতেন। বিগত বেশ কিছুদিন ধরে জমি ও বসতবাড়ি ভাগাভাগি নিয়ে সুরেশ ও সোমনাথের মধ্যে তীব্র পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধ স্থানীয় পর্যায়ে মেটানোর জন্য গ্রামে একাধিকবার প্রবীণদের নিয়ে সালিশি সভা বা পঞ্চায়েতও বসানো হয়েছিল, কিন্তু কোনো পক্ষই পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।

চলমান এই পারিবারিক উত্তেজনার জের ধরেই শুক্রবার পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং দুই ভাইয়ের মধ্যে চরম বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে বড় ভাই সুরেশ তাঁর লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল দিয়ে ছোট ভাই সোমনাথের ওপর গুলিবর্ষণ করেন। এই আকস্মিক ও নৃশংস হামলায় ঘটনাস্থলেই সোমনাথ সিংয়ের করুণ মৃত্যু হয়। দিনের আলোয় প্রকাশ্য গ্রামে এমন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও হুলুস্থুল পড়ে যায়। খবর পেয়ে অবিলম্বে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন সদর এসডিপিও-২ গোপাল মণ্ডল এবং করতাহা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।

পুলিশ ঘটনাস্থল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে সেখান থেকে মোট পাঁচটি ব্যবহৃত কার্তুজের খোসা উদ্ধার করেছে। এছাড়া নিহতের শরীরে অন্তত দুটি গুরুতর জখমের বা গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এদিকে, নিজের সগম ভাইকে গুলি করে খুন করার পরপরই অভিযুক্ত সুরেশ প্রসাদ সিং রক্তে ভেজা বা সঙ্গে থাকা পিস্তলটি নিয়ে সোজা এসএসপি শুভাঙ্ক মিশ্রের অফিসে হাজির হন এবং নিজের অপরাধ স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর করতাহা থানার পুলিশ তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করে। পাশাপাশি, এই হত্যা মামলায় অভিযুক্তের স্ত্রীকেও পুলিশ আটক বা গ্রেপ্তার করেছে, যদিও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে তাঁর সুনির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল, সে বিষয়ে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত এখনও অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাজিপুর সদর হাসপাতালে পাঠানোর সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে। গ্রামবাংলার বুকে সম্পত্তি নিয়ে চলা এত পুরনো ও পরিচিত বিবাদ যে শেষ পর্যন্ত এমন একটি মর্মান্তিক ও প্রাণঘাতী রূপ নিতে পারে, তা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে যে, উদ্ধার হওয়া প্রমাণাদি এবং ফরেনসিক রিপোর্টের ভিত্তিতে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখে অত্যন্ত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *