নিউজিল্যান্ডে গিয়ে খাদের কিনারায় টিম ইন্ডিয়া! প্রথম টেস্টের প্রথম দিনেই মুখ থুবড়ে পড়ল ভারতের তারকা ব্যাটিং লাইনআপ!

নিউজিল্যান্ডের পেস সহায়ক ও চ্যালেঞ্জিং কন্ডিশনে খেলতে নেমে শুরুতেই চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ভারতীয় ‘এ’ দল। আগামী ১৯ নভেম্বর থেকে শুরু হতে চলা মূল টেস্ট সিরিজের আগে নিজেদের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিতে নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে ক্রাইস্টচার্চের লিংকন শহরের বर्ट সটक्लिফ স্টেডিয়ামে প্রথম অনौपचारिक (Unofficial) টেস্ট ম্যাচে খেলতে নেমেছে ভারতীয় দল। কিন্তু টেস্ট সিরিজের ঠিক আগে শনিবার, ২৪ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই প্রথম ম্যাচের প্রথম দিনেই ভারতীয় টেস্ট দলের তারকা ব্যাটারদের চরম ব্যর্থতা ক্রিকেট মহলে তীব্র আলোড়ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। কিউই পেসারদের আগুনে গতির সামনে ভারতীয় ব্যাটিং দুর্গ একেবারে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে এবং মাত্র ১১৩ রানেই অলআউট হয়ে যায় ইন্ডিয়া-এ দল।
আসন্ন টেস্ট সিরিজের কথা মাথায় রেখে ভারতীয় স্কোয়াডের বেশ কয়েকজন নিয়মিত ও পরীক্ষিত তারকাকে এই ‘এ’ দলের স্কোয়াডে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। দলে ছিলেন কেএল রাহুল, যশস্বী জয়সওয়াল, দেবদত্ত পাড়িক্কালের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটাররা। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের সুইং এবং বাউন্স ভরা পিচে তাদের সকলেরই ব্যাটিং টেকনিক মার খেয়ে যায়। টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিলেও শুরু থেকেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ভারত। ইনিংসের শুরুতেই কেএল রাহুল, সাই সুদর্শন এবং অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার ওয়াশিংটন সুন্দর কোনো রান না করেই অর্থাৎ খাতা না খুলেই সাজঘরে ফিরে যান।
দলের দুই ওপেনার ও টপ অর্ডার ব্যাটারদের ব্যর্থতার দিনে তরুণ ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল ১৭ রান এবং দেবদত্ত পাড়িক্কাল কিছুটা লড়াই চালিয়ে ৩২ রান সংগ্রহ করলেও বড় ইনিংসে রূপ দিতে ব্যর্থ হন। দলের অধিনায়ক ধ्रुव জুরেল মাত্র ১ রান করে আউট হন। মাত্র ৫৮ রান তুলতেই ভারতীয় দলের প্রথম সারির ৭ জন ব্যাটার প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। স্কোরবোর্ডে একশো রান তোলা নিয়ে যখন চরম শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, ঠিক তখনই দলের নতুন মুখ যশ রাঠোর অত্যন্ত সাহসী ও আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করে দলের মান রক্ষা করেন। তিনি মাত্র ৪৯ বল মোকাবিলা করে ৪টি বাউন্ডারি ও ছক্কার সাহায্যে অসাধারণ একটি অপরাজিত ৪৪ রানের ইনিংস খেলেন। তাঁর এই লড়াকু কাউন্টার অ্যাটাকিং ইনিংসের সুবাদেই ভারতীয় দল সম্মানজনকভাবে একশো রানের গণ্ডি পেরিয়ে ১১৩ রানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। নিউজিল্যান্ডের আক্রমণাত্মক পেস বোলিং ডিপার্টমেন্টের সামনে ভারতীয় ব্যাটাররা সম্পূর্ণ অসহায় আত্মসমর্পণ করেন। কিউই পেসারদের মধ্যে বিধ্বংসী বোলিং করে একাই ৫টি উইকেট শিকার করেন পেসার সাইমন কিন এবং তাঁর সঙ্গে তাল মিলিয়ে জ্যাক গিবসন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন।
শুধু ব্যাটিংয়েই নয়, নিউজিল্যান্ডের এই সবুজ ও ঘাসে ঢাকা উইকেটে বল হাতেও চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন ভারতীয় বোলাররা। খোদ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ভারতীয় পেসার ও স্পিনাররা কিউই ব্যাটারদের সামনে সম্পূর্ণ নিষ্প্রভ ছিলেন। নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের উদ্বোধনী জুটির ব্যাটাররা ভারতীয় বোলারদের সহজেই মোকাবিলা করে ১৩২ রানের দুর্দান্ত এক পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন, যা ভারতীয় শিবিরকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়। দীর্ঘ চেষ্টার পর পেসার মুকেশ চৌধুরী ভারতের হয়ে প্রথম সাফল্য এনে দেন। এরপর আকিব নবী পরপর দুই বলে দুটি উইকেট তুলে নিয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। প্রথম দিনের খেলা শেষের সময় পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দল ৩টি উইকেট হারিয়ে ১৩৫ রান সংগ্রহ করে এবং ইতিমধ্যে ভারতের প্রথম ইনিংসের স্কোরের চেয়ে ২২ রানের লিড বা বাড়তি রান অর্জন করে নেয়। অন্যদিকে, মূল টেস্ট দলে জায়গা পাওয়া আকাশ দীপ, অংশুল কম্বোজ এবং ওয়াশিংটন সুন্দরের মতো বোলাররা সারাদিন বল করেও কোনো উইকেট না পেয়ে খালি হাতেই মাঠ ছাড়েন। অভিজ্ঞতার এমন চরম ঘাটতি ও পারফরম্যান্সের বেহাল দশা দেখে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা গভীর দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।