কিডনি দাও নয়তো ৩০ লাখ টাকা!’ কানপুরে স্বামীর ভয়ঙ্কর কীর্তিতে শিউরে উঠছে দেশ

উত্তরপ্রদেশের কানপুরে এক গৃহবধূর ওপর পৈশাচিক নির্যাতনের এমন এক কাহিনী সামনে এসেছে, যা শুনে রীতিমতো স্তম্ভিত সাধারণ মানুষ। পণের জন্য অকথ্য অত্যাচারের পাশাপাশি ওই মহিলার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় নিজের একটি কিডনি স্বামীকে দান করার জন্য। রাজি না হওয়ায় দাবি করা হয় নগদ ৩০ লক্ষ টাকা। অভিযুক্ত স্বামী নিশান্ত কুমার ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই কানপুর পুলিশ প্রতারণা ও পণের মামলা দায়ের করেছে।
২০২৩ সালের জুনে লখনউয়ের নিশান্তের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল অভিযোগকারী মহিলার। বাপের বাড়ি থেকে নগদ ৮ লক্ষ টাকা, সোনার গয়না এবং একটি বিলাসবহুল ‘মহেন্দ্র থর’ গাড়ি দেওয়া হয়েছিল যৌতুক হিসেবে। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই শুরু হয় অদ্ভুত সব মানসিক লাঞ্ছনা। ওই গৃহবধূর দাবি, তাঁর স্বামী শারীরিক সম্পর্কে অক্ষম ছিলেন এবং দিনের বেলা অন্তত ১০টি করে ওষুধ খেতেন। কারণ জানতে চাইলে বলা হতো, নিশান্ত উচ্চ রক্তচাপের রোগী। এমনকি স্ত্রীর অভিযোগ, অনেক সময় তাঁর শাশুড়ি এসে স্বামী-স্ত্রীর মাঝখানে শুয়ে পড়তেন এবং শ্বশুর অনুমতি ছাড়াই ঘরে ঢুকে তাঁর ছবি তুলতেন।
পরবর্তীতে একটি গোপন মেডিকেল ফাইল থেকে আসল সত্য বেরিয়ে আসে। মহিলা জানতে পারেন, ২০২২ সাল থেকেই অতিরিক্ত নেশার কারণে নিশান্তের দুটি কিডনিই অকেজো হয়ে গিয়েছিল এবং তিনি নিয়মিত ডায়ালিসিসে ছিলেন। এই জালিয়াতির প্রতিবাদ করতেই শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা মূর্তরূপ ধারণ করেন। তাঁরা সাফ জানিয়ে দেন, “হয় স্বামীর জন্য একটি কিডনি দিতে হবে, না হলে ৩০ লক্ষ টাকা দিতে হবে।” ২০২৪ সালের এপ্রিলে কোনোক্রমে শ্বশুরবাড়ি থেকে পালিয়ে প্রাণ বাঁচান ওই মহিলা। বর্তমানে পুলিশ আধিকারিক অভিষেক পাণ্ডে জানিয়েছেন, মামলা দায়ের হয়েছে এবং সত্যতা যাচাই করে দ্রুত কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।