স্টেশনে এসে দাহ্য পদার্থ দিয়ে গেল রহস্যময় সেই যুবক! লখনউ জঙ্গি মডিউলে ‘পঞ্চম’ ব্যক্তির খোঁজে তোলপাড় এটিএস

লখনউয়ের আলমনগর রেল স্টেশন থেকে চার অভিযুক্ত ধরা পড়ার পর এখন পুরো তদন্তের কেন্দ্রে উঠে এসেছে এক রহস্যময় ‘পঞ্চম ব্যক্তি’। উত্তরপ্রদেশ সন্ত্রাস দমন স্কোয়াড (ATS)-এর দাবি, এই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিই সম্ভবত পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের সাথে সরাসরি যোগাযোগে ছিল এবং ধৃতদের হাতে নাশকতার সরঞ্জাম পৌঁছে দিয়েছিল।

স্টেশনে কী ঘটেছিল ২ এপ্রিল সন্ধ্যায়?
এটিএস সূত্রে খবর, ২ এপ্রিল সন্ধ্যায় আলমনগর রেল স্টেশনে এসে পৌঁছায় সাকিব, আরবাব, লোকেশ এবং বিকাশ। কিছুক্ষণ পরেই এক রহস্যময় ব্যক্তি সেখানে আসে এবং প্রায় দুই লিটার দাহ্য পদার্থ তাদের হাতে তুলে দিয়ে কোনও কথা না বলেই দ্রুত চলে যায়। আশ্চর্যজনকভাবে, অভিযুক্ত চারজন ওই ব্যক্তির নাম বা পরিচয় পর্যন্ত জানে না। এটিএস এই ব্যক্তিকেই মামলার ‘পঞ্চম অভিযুক্ত’ এবং পুরো চক্রের মূল সংযোগসূত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

সিসিটিভি ফুটেজ ও ফরেনসিক স্ক্যানারের নিচে অভিযুক্তরা
তদন্তকারী সংস্থাগুলো এখন স্টেশনের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে। একই সাথে, ধৃতদের মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। জানা গেছে:

মুছে ফেলা চ্যাট: পাকিস্তানি নিয়ন্ত্রকদের নির্দেশে অভিযুক্তরা সমস্ত চ্যাট মুছে ফেলেছিল। এটিএস-এর ফরেনসিক দল সেই চ্যাটগুলো উদ্ধারের কাজ করছে, যা থেকে দেশজুড়ে হামলার ষড়যন্ত্রের তথ্য মিলতে পারে।

নতুন যুবকের নাম: তদন্তে লখনউয়ের লালকুয়া এলাকার আরও এক যুবকের নাম উঠে এসেছে, যে মূল অভিযুক্ত সাকিবের সাথে যোগাযোগ রাখছিল এবং নাশকতায় অংশ নিতে প্রস্তুত ছিল।

দেশজুড়ে বড়সড় নাশকতার ছক!
এটিএস-এর প্রাথমিক অনুমান, এই মডিউলটি ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছিল। আলমনগর রেল স্টেশনে দাহ্য পদার্থের এই ‘ড্রপ’ দেওয়া থেকে পরিষ্কার যে, একটি বড় ষড়যন্ত্রী গোষ্ঠী পর্দার আড়াল থেকে এদের পরিচালনা করছে। পলাতক সেই রহস্যময় যুবককে খুঁজে বের করতে গোয়েন্দারা প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং তল্লাশি অভিযান জোরদার করেছেন।

লখনউয়ের এই ঘটনা আবারও দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড়সড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল। পুলিশের ধারণা, ‘পঞ্চম’ ব্যক্তিকে ধরতে পারলেই পাকিস্তানের সরাসরি যোগসূত্রটি অকাট্যভাবে প্রমাণ করা সম্ভব হবে।