উপসাগরীয় যুদ্ধের অবসান? আমেরিকা-ইরান যুদ্ধবিরতি হতেই কপাল খুলল ভারতের!

বিশ্ব রাজনীতির এক নাটকীয় মোড়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল আন্তর্জাতিক মহল। দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে অবশেষে ১৪ দিনের এক গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি সাময়িক চুক্তি মনে হলেও, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ ঘিরে যে উত্তেজনার পারদ চড়ছিল, এই যুদ্ধবিরতি তাতে জল ঢেলে দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের তেল ও গ্যাস বাণিজ্যের ধমনী হিসেবে পরিচিত। যুদ্ধের আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, এই চুক্তির ফলে তা অনেকটাই থিতু হয়েছে। যখনই এই পথে সংঘাতের মেঘ ঘনীভূত হয়, তখন বীমা কোম্পানিগুলো প্রিমিয়াম বাড়িয়ে দেয় এবং তেল ব্যবসায়ীরা ঝুঁকি এড়াতে মজুতদারি শুরু করেন। ফলে বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়তে থাকে জ্বালানির দাম। কিন্তু এই যুদ্ধবিরতি বার্তা দিচ্ছে যে, বিশ্ব হয়তো বড়সড় কোনো বিপর্যয় থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে চলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রভাবে তেলের দাম যেমন নিম্নমুখী, তেমনই এশীয় বাজারেও এর ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।
ভারত কীভাবে লাভবান হবে?
আমেরিকা-ইরান যুদ্ধবিরতির খবরে সবচেয়ে বেশি চাঙ্গা হয়েছে ভারতের বাজার। প্রশ্ন উঠছিল, এই আন্তর্জাতিক চুক্তিতে ভারতের সাধারণ মানুষের কী লাভ? উত্তর মিলল শেয়ার বাজার খুলতেই। লেনদেন শুরু হতেই বিনিয়োগকারীদের মুখে হাসি ফুটিয়ে সেনসেক্স ও নিফটি প্রায় ৩.৫% বৃদ্ধি পায়। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের পকেটে ঢুকেছে প্রায় ১৪ লক্ষ কোটি টাকা। এটি কেবল প্রাথমিক প্রভাব; বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে ভারতের অর্থনীতিতে এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।
ভারত তার অপরিশোধিত তেলের চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানির ওপর নির্ভর করে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া মানেই তেলের দাম স্থিতিশীল হওয়া। এর ফলে সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতের সাধারণ মানুষের পকেটে। জ্বালানির দাম কমলে পরিবহন খরচ কমবে এবং স্বাভাবিকভাবেই বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।
সোনা ও রুপির অবস্থান:
সাধারণত যুদ্ধের সময় মানুষ সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে মনে করে, ফলে সোনার দাম বৃদ্ধি পায়। কিন্তু শান্তি ফিরলে সোনার চাহিদা কমে এবং দামেও পতন দেখা দেয়। এই যুদ্ধবিরতির ফলে সোনার বাজারেও কিছুটা মন্দা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, তেলের আমদানি খরচ কমলে বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বাড়বে, যা ভারতীয় রুপিকে বিশ্ববাজারে শক্তিশালী করবে।
ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো কূটনৈতিক সাফল্য। যুদ্ধের কঠিন সময়েও ইরান ভারতের জন্য নৌপথ খোলা রেখেছিল। যদিও বহু জাহাজ এখনও আটকে আছে, তবুও তেহরান ভারতের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির ওপর আস্থা রেখেছে। এই যুদ্ধবিরতি ভারতের মুদ্রাস্ফীতি কমিয়ে সাধারণ মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস ওঠা থেকে মুক্তি দেবে বলেই আশা করা হচ্ছে।