“বিজেপির নোংরা রাজনীতির শিকার!” কংগ্রেস বিধায়কের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড নিয়ে বিস্ফোরক উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি.কে. শিবকুমার

কর্ণাটকের রাজনীতিতে এখন তোলপাড়। ১০ বছর আগের একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় কংগ্রেস বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী বিনয় কুলকার্নিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে বিশেষ আদালত। আর এই রায় ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি.কে. শিবকুমার সরাসরি দাবি করেছেন, উত্তর কর্ণাটকে কুলকার্নির ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক প্রভাব খর্ব করতেই বিজেপি তাঁকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসিয়েছে।
সাজা ও আদালতের রায়
শুক্রবার বেঙ্গালুরুর বিশেষ আদালত বিজেপি নেতা যোগেশগৌড়া গৌদার হত্যা মামলায় বিনয় কুলকার্নিসহ ১৫ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। বিচারক সন্তোষ গজানন ভাট জানিয়েছেন, ভারতীয় দণ্ডবিধির ফৌজদারি ষড়যন্ত্র এবং খুনের ধারায় এই অপরাধ প্রমাণিত।
“তিনি কোনো ভুল করেননি”— শিবকুমারের আস্থা
আদালতের রায়ের পর ডি.কে. শিবকুমার কংগ্রেস বিধায়কের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, “আমি আদালতের রায়কে সম্মান করি, কিন্তু এই পুরো মামলাটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। যখন পুলিশ তদন্ত শেষে ক্লোজার রিপোর্ট বা ‘বি-রিপোর্ট’ দিতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই তাঁকে হয়রানি করতে মামলাটি সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়। আমি তাঁর পরিবারের সাথে কথা বলেছি, তাঁরা ঈশ্বরের নামে শপথ করে বলেছেন বিনয় কোনো অন্যায় করেননি। আমি এখনও তাঁকে বিশ্বাস করি।”
কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত দিনে?
ঘটনাটি ২০১৬ সালের ১৫ই জুন কর্ণাটকের ধারওয়াড়ের। বিজেপি জেলা পঞ্চায়েত সদস্য যোগেশগৌড়া গৌদারকে তাঁর নিজের জিমের ভেতরে ঢুকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে একদল ভাড়াটে দুষ্কৃতী। সেই সময় বিনয় কুলকার্নি রাজ্যের মন্ত্রী ছিলেন। ২০১৯ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর বি.এস. ইয়েদিউরাপ্পার সরকার মামলাটি সিবিআই-এর হাতে তুলে দেয়।
ইয়েদিউরাপ্পার পাল্টা জবাব
বিজেপির প্রবীণ নেতা ইয়েদিউরাপ্পা আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, “অপরাধ যে হয়েছিল তা আমি শুরু থেকেই বলে আসছিলাম। আজ সত্য প্রমাণিত হয়েছে এবং অপরাধীরা যোগ্য শাস্তি পেয়েছে।”
বর্তমানে কংগ্রেস বিধায়ক বিনয় কুলকার্নির সামনে উচ্চ আদালতে আপিল করার পথ খোলা রয়েছে। তবে এই রায়কে কেন্দ্র করে ২০২৬-এর রাজনৈতিক সমীকরণে যে বড়সড় প্রভাব পড়বে, তা বলাই বাহুল্য।