সংসদে কঙ্গনার ‘ব্লু ম্যাজিক’! ৮০০ বছরের পুরনো ট্র্যাডিশনের পর এবার কটন ব্লেন্ড শাড়িতে নজর কাড়লেন ‘কুইন’

বলিউড হোক বা সংসদ— কঙ্গনা রানাওয়াত মানেই আভিজাত্য আর স্পষ্টবাদিতা। বর্তমানে পশ্চিমা পোশাকের জোয়ারে গা না ভাসিয়ে ভারতের ঐতিহ্যবাহী হ্যান্ডলুম বা তাঁতশিল্পের প্রচারে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন এই অভিনেত্রী তথা সাংসদ। সম্প্রতি ৮০০ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী শাড়ি এবং ২৫০ বছরের পুরনো মাহেশ্বরী সিল্ক পরে আলোচনায় আসার পর, এবার কঙ্গনার নতুন ‘পার্লামেন্ট লুক’ সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হচ্ছে।
নীল শাড়িতে রাজকীয় আভিজাত্য
সংসদের অধিবেশনে এবার কঙ্গনাকে দেখা গেল একটি জমকালো অথচ স্নিগ্ধ নীল রঙের হ্যান্ডলুম কটন ব্লেন্ড শাড়িতে। নীল রঙের সাথে বাদামী রঙের পাড় শাড়িটিতে এক অপূর্ব বৈপরীত্য তৈরি করেছে। এর সাথে বোট নেক এবং হাফ হাতার ব্লাউজ তাঁর লুকে যোগ করেছে আভিজাত্যের ছোঁয়া। হাতে ব্যাগ, চোখে কালো সানগ্লাস আর সেই চিরচেনা আত্মবিশ্বাসের সাথে যখন তিনি সংসদে প্রবেশ করলেন, তখন সবার চোখ আটকে গিয়েছিল তাঁর দিকেই।
কটন ব্লেন্ড শাড়ির রহস্য কী?
কেন কঙ্গনা ইদানীং এই ধরণের শাড়ি বেশি পছন্দ করছেন? কটন ব্লেন্ড শাড়ি হলো এমন এক ধরণের বস্ত্র যা খাঁটি সুতির সাথে সিল্ক, পলিয়েস্টার বা খাদির মতো তন্তু মিশিয়ে তৈরি করা হয়।
সুবিধা: এই শাড়িগুলো খাঁটি সুতির তাঁতের শাড়ির মতো দ্রুত ভাঁজ হয়ে যায় না।
টেকসই: এগুলো অনেক বেশি মজবুত এবং সারাদিন পরে থাকলেও স্বাচ্ছন্দ্য বজায় থাকে।
বাংলার ঐতিহ্যবাহী তাঁত থেকে শুরু করে মাহেশ্বরী সিল্ক— কঙ্গনার প্রতিটি সাজই ভারতীয় কারিগরদের নিপুণ কাজের জয়গান গাইছে।
মেকআপ ও হেয়ারস্টাইল
কঙ্গনা তাঁর এই সংসদীয় সাজটি পূর্ণ করেছেন খুবই সাধারণ মেকআপে। হালকা বেস মেকআপের সাথে নিউড লিপস্টিক এবং অর্ধেক চুল বাঁধা অবস্থায় তাঁকে দেখাচ্ছিল আধুনিক ভারতের এক বলিষ্ঠ প্রতিনিধি হিসেবে। ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের মতে, কঙ্গনার এই সাজ কেবল স্টাইল নয়, বরং এটি দেশীয় হস্তশিল্পের প্রসারে একটি বড় বার্তা।
সংসদে গিয়ে নিজের জোরালো বক্তব্যের পাশাপাশি কঙ্গনা যেভাবে ভারতীয় ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করছেন, তা প্রশংসিত হচ্ছে সর্বস্তরে।