গানে নারী অবমাননা! মহিলা কমিশনের তলব পেতেই ‘প্রায়শ্চিত্ত’ করতে বড় পদক্ষেপ বাদশার

বিতর্ক আর বাদশা যেন একই মুদ্রার দুই পিঠ। আবারও আইনি জটিলতায় নাম জড়াল জনপ্রিয় র‍্যাপার বাদশার। তবে এবার অভিযোগটা বেশ গুরুতর—নারীদের কুরুচিকরভাবে উপস্থাপনা। তাঁর সাম্প্রতিক মুক্তি পাওয়া হারিয়ানভি গান ‘তাতীরি’ (Tateeree) নিয়ে সরব হয়েছিল জাতীয় মহিলা কমিশন (NCW)। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে অবশেষে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন শিল্পী। শুধু ক্ষমাপ্রার্থনা নয়, নিজের ভুল সংশোধনে বড়সড় এক সামাজিক অঙ্গীকারও করলেন তিনি।

জাতীয় মহিলা কমিশনের পক্ষ থেকে বাদশাকে নোটিশ পাঠিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল, কেন তাঁর গানে নারীবিদ্বেষী ও অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। কমিশনের প্রতিনিধিদের সামনে সশরীরে হাজিরা দিয়ে বাদশা জানান, কাউকে আঘাত করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। লিখিত বিবৃতিতে তিনি স্বীকার করেন, অজান্তেই এই ত্রুটি হয়ে গিয়েছে এবং ভবিষ্যতে গানের শব্দ চয়নের ক্ষেত্রে তিনি আরও কয়েক গুণ বেশি সতর্ক থাকবেন।

তবে কেবল মৌখিক ক্ষমাতেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিতর্কিত গানের জন্য সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের পথে হেঁটেছেন তিনি। বাদশা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আর্থিক অনগ্রসর পরিবার থেকে আসা ৫০ জন মেয়ের শিক্ষার সমস্ত খরচ তিনি বহন করবেন। মূলত গানের মাধ্যমে ছড়ানো নেতিবাচক প্রভাব কাটাতেই এই মানবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিল্পী।

কমিশনের চেয়ারপার্সন বিজয়া রাহাতকরের সামনে শুনানিতে হাজির ছিলেন পরিচালক জোবান সান্ধু এবং প্রযোজক হিতেন। দীর্ঘ পর্যালোচনার পর কমিশন স্পষ্ট করে দেয় যে, গানের কথা ও উপস্থাপনা নারীর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে। শুনানি শেষে বাদশা আরও প্রতিশ্রুতি দেন যে, আগামী চার মাসের মধ্যে তিনি নারী ক্ষমতায়নের ওপর একটি ইতিবাচক গান তৈরি করবেন এবং ভবিষ্যতে এমন কোনো কাজ করবেন না যা সমাজকে ভুল বার্তা দেয়।

উল্লেখ্য, গত ১ মার্চ মুক্তি পেয়েছিল ‘তাতীরি’। বিতর্ক তুঙ্গে ওঠায় ইতিমধ্যেই সব প্ল্যাটফর্ম থেকে গানটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। হরিয়ানা পুলিশও সক্রিয়ভাবে কয়েকশো লিঙ্ক সোশ্যাল মিডিয়া থেকে মুছে ফেলেছে। এর আগেও ‘গেন্দা ফুল’ বা অন্যান্য গানে দ্ব্যর্থবোধক শব্দের জন্য সমালোচিত হয়েছিলেন বাদশা, কিন্তু এবার জাতীয় মহিলা কমিশনের কড়া মনোভাব তাঁকে কার্যত কোণঠাসা করে দিয়েছিল।