“২০২৫ সালের এপ্রিল-সেপ্টেম্বরে ব্যাঙ্ক জালিয়াতির অঙ্ক ৩০% বেড়েছে”- জানালো RBI

ভারতীয় ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় জালিয়াতির ধরনে এক অদ্ভুত বদল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) লেটেস্ট ‘রিপোর্ট অন ট্রেন্ড অ্যান্ড প্রগ্রেস অফ ব্যাঙ্কিং ইন ইন্ডিয়া ২০২৪-২৫’ অনুযায়ী, দেশে ব্যাঙ্ক জালিয়াতির ঘটনার সংখ্যা কমলেও লোপাট হওয়া অর্থের পরিমাণ লাফিয়ে বেড়েছে। চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ছ’মাসে (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর ২০২৫) এই অঙ্ক ২১ হাজার কোটি টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে।
পরিসংখ্যানের গোলকধাঁধা: সংখ্যা বনাম অঙ্ক
রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের প্রথমার্ধে জালিয়াতির পরিমাণ গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে।
-
এপ্রিল-সেপ্টেম্বর ২০২৪: জালিয়াতির পরিমাণ ছিল ১৬,৫৬৯ কোটি টাকা।
-
এপ্রিল-সেপ্টেম্বর ২০২৫: এই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১,৫১৫ কোটি টাকায়। বিস্ময়কর বিষয় হলো, গত বছর এই সময়ে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছিল ১৮,৩৮৬টি, যা এবার কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫,০৯২টিতে। অর্থাৎ, জালিয়াতির সংখ্যা কমলেও প্রতিটি ঘটনায় লোকসানের পরিমাণ অনেক বেশি।
কেন হঠাৎ এত বাড়ল জালিয়াতির অঙ্ক?
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই লাফিয়ে বাড়ার পেছনে বড় কারণ হলো সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়। ২০২৩ সালের মার্চ মাসের ওই রায় অনুযায়ী, পুরনো ১২২টি বড় মামলার পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে। এই মামলাগুলো থেকেই প্রায় ১৮,৩৩৬ কোটি টাকা নতুন করে জালিয়াতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
জালিয়াতির প্রধান ক্ষেত্রগুলি:
-
ইন্টারনেট ও কার্ড জালিয়াতি: ঘটনার সংখ্যার নিরিখে এটি শীর্ষে (৬৬.৮%)। অর্থাৎ ডিজিটাল প্রতারণাই সবথেকে বেশি ঘটছে।
-
ঋণ জালিয়াতি (Advances): টাকার অঙ্কের দিক থেকে সবথেকে বড় বড় জালিয়াতি হয়েছে লোন বা ঋণের ক্ষেত্রে (৩৩.১%)। বড় কর্পোরেট ঋণের ক্ষেত্রেই মূলত ব্যাঙ্কগুলি বড় ধাক্কা খেয়েছে।
-
সরকারি বনাম বেসরকারি ব্যাঙ্ক: জালিয়াতির সংখ্যার দিক থেকে বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলি এগিয়ে থাকলেও (৫৯.৩%), আর্থিক ক্ষতির প্রায় ৭০.৭ শতাংশ বহন করছে সরকারি ব্যাঙ্কগুলি।
আশার আলো কোথায়?
এত জালিয়াতির মধ্যেও একটি স্বস্তির খবর দিয়েছে RBI। সব ধরনের ব্যাঙ্কেই ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড এবং ইন্টারনেট জালিয়াতির ঘটনা এবং টাকার অঙ্ক আগের বছরের তুলনায় বেশ কিছুটা কমেছে। এর অর্থ হলো, সাধারণ মানুষের মধ্যে ডিজিটাল সুরক্ষা নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে।