খামেনির পতন কি ঘণ্টা বাজছে?-ট্রাম্পের হামলার হুমকি—কেন এবার দিশেহারা ইরান?

ইরানে বিক্ষোভ নতুন কিছু নয়, কিন্তু এবারের আগুন কেন খোদ সরকারকে ভস্মীভূত করার হুমকি দিচ্ছে? বিবিসি ফার্সি বিভাগের সম্পাদক আমির আজিমির বিশ্লেষণে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। ২০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু এবং ট্রাম্পের সরাসরি সামরিক হামলার হুমকির মুখে এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে তেহরান।
ট্রাম্পের ‘রেড লাইন’ ও যুদ্ধের মেঘ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফার কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের শাসকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে ইরানে শক্তিশালী হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, দমনের শুরুতেই অন্তত ২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এখন বিশ্ব তাকিয়ে আছে হোয়াইট হাউসের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
নিষেধাজ্ঞায় সাধারণ মানুষের হাহাকার, নেতাদের উৎসব! বিস্ময়কর হলেও সত্য, অনেক ইরানি মনে করেন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করলেও সরকারের প্রভাবশালী নেতাদের জন্য এটি আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ ব্যবস্থায় তেল বিক্রি, চোরাচালান এবং অর্থ পাচারের মাধ্যমে একদল নেতা নিজেদের পকেট ভারী করছেন, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ ভুগছে তীব্র অর্থনৈতিক দুর্দশায়।
টার্নিং পয়েন্ট: ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ আমির আজিমির মতে, গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সরাসরি যুদ্ধ এবং তাতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ এই বিক্ষোভের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানের গর্বের পারমাণবিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে এক বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ভেঙে পড়েছে খামেনির ‘নিরাপত্তা তত্ত্ব’ দীর্ঘদিন ধরে সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলে আসছিলেন যে, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক মিত্রদের (হিজবুল্লাহ, হামাস) পেছনে হাজার হাজার কোটি ডলার খরচ করা হচ্ছে ইরানের নিরাপত্তার জন্য। কিন্তু ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সরাসরি হামলা প্রমাণ করেছে যে, এত বিপুল খরচ করেও ইরান সুরক্ষিত নয়। ফলে সরকারের এই “নিরাপত্তা অজুহাত” এখন ইরানের সাধারণ মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে।
পরিশেষ: অর্থনৈতিক সংকট, নেতৃত্বের দুর্নীতি এবং যুদ্ধের ব্যর্থতা—এই তিনে মিলে ইরানকে এমন এক অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। ট্রাম্পের হামলা যদি সত্যি হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে যেতে পারে চিরতরে।