“স্ট্রংরুমে থাকার কথা, মিলল রাস্তায়!”-ভিভিপ্যাট স্লিপ উধাও হয়ে ১৫ কিমি দূরে?

সোমবার রাজ্যের ভাগ্য নির্ধারণ। তার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে উত্তর ২৪ পরগনার নীলগঞ্জ এলাকায় যা ঘটল, তাতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। বারাসত-ব্যারাকপুর রোডের ধারে প্রকাশ্য রাস্তায় উড়তে দেখা গেল একের পর এক ভিভিপ্যাট (VVPAT) স্লিপ। গণনার আগের সন্ধ্যায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় নীলগঞ্জ সুভাষনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকা।

ঘটনার সূত্রপাত রবিবার বিকেলে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথম দেখেন, বাসস্ট্যান্ডের পাশের রাস্তায় বেশ কিছু কাগজ উড়ছে। কৌতূহলবশত কাছে যেতেই চক্ষু চড়কগাছ তাঁদের। দেখা যায়, ওগুলো সাধারণ কোনো কাগজ নয়, বরং বিধানসভা নির্বাচনের ভিভিপ্যাট স্লিপ। যেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে সিপিএম প্রার্থী গার্গী চট্টোপাধ্যায়, তৃণমূলের তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য এবং বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংয়ের নাম ও প্রতীক। মুহূর্তের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভিড় জমতে শুরু করে।

১৫ কিমি দূরে কীভাবে এল স্লিপ? উদ্ধার হওয়া স্লিপগুলি নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের। কিন্তু চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, নোয়াপাড়া থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে নীলগঞ্জ এলাকায় এই স্লিপগুলো এল কীভাবে? স্থানীয়দের একাংশের বিক্ষোভের মুখে পড়েন বারাসত ১ ব্লকের বিডিও। তাঁর গাড়ি ঘিরে চলে প্রতিবাদ। পুলিশের সঙ্গেও স্থানীয়দের বচসা বাধে। বিরোধীদের প্রশ্ন, স্ট্রংরুমে কড়া পাহারায় থাকার কথা যে নথির, তা গণনার কয়েক ঘণ্টা আগে রাস্তায় গড়াগড়ি খাচ্ছে কীভাবে?

বিরোধীদের তোপ ও প্রার্থীর দাবি এই ঘটনায় সমাজমাধ্যমে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। নির্বাচন কমিশনকে বিঁধে তিনি লেখেন, ‘বজ্র আটুনি-ফস্কা গেরো!’ এদিকে নোয়াপাড়ার বাম প্রার্থী গার্গী চট্টোপাধ্যায় দাবি করেছেন, এগুলি মক পোলের স্লিপ নয়, বরং গারুলিয়া হিন্দি ফ্রি প্রাইমারি স্কুলের বুথের আসল ভিভিপ্যাট স্লিপ। বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং এই ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলে কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তৃণমূল প্রার্থী তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যও ঘটনার বিস্ময় প্রকাশ করে পূর্ণ তদন্ত চেয়েছেন।

প্রশাসনের তৎপরতা পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শিল্পা গৌরিসারিয়া জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া স্লিপগুলি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে এবং কীভাবে এই ঘটনা ঘটল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রাজ্যজুড়ে যখন ইভিএম ও স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে টানটান উত্তেজনা, তখন নোয়াপাড়ার এই ঘটনায় নতুন করে ‘কারচুপি’র আশঙ্কা প্রকাশ করছে রাজনৈতিক মহল। সোমবার গণনার টেবিলে এই ইস্যু কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।