‘কালোবাড়ি’ পুনর্জীবিত! শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যে ফিরল নন্দলাল-রামকিঙ্করের জাদু, কেন ছুটছেন পর্যটকরা?

দীর্ঘ প্রায় দু’দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন ছন্দে ফিরেছে বিশ্বভারতীর ঐতিহ্যমণ্ডিত ‘কালোবাড়ি’। প্রখ্যাত শিল্পী নন্দলাল বসু এবং রামকিঙ্কর বেইজের হাতে গড়া এই স্থাপত্যটি কলাভবন চত্বরের এক অন্যতম আকর্ষণ। একসময় পড়ুয়াদের ছাত্রাবাস এবং পরে শিল্পচর্চার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত এই বাড়িটিকে ঘিরে জড়িয়ে রয়েছে শান্তিনিকেতনের বহু গল্প ও স্মৃতি। কিন্তু কালের নিয়মে ফাটল ধরা, ভাস্কর্যের অংশ খসে পড়া এবং রঙের মলিনতায় এর জৌলুস কমছিল।
প্রাক্তনী এবং পর্যটকদের নিরন্তর ইচ্ছাকে মর্যাদা দিয়ে অবশেষে সংস্কারের কাজ শুরু হয়। কলাভবনের শিল্পীরা বর্ষার আগেই কাজ শুরু করলেও প্রবল বৃষ্টিতে তা থমকে যায়। তবে শীতের মিঠে রোদ দেওয়াল শুকোতেই কাজ আবার গতি পেয়েছে। ভাঙা অংশ জোড়া লেগেছে। নতুন মাটি ও আলকাতরার এক মনমাতানো গন্ধ এখন শান্তিনিকেতনের বাতাসে মিশেছে।
নন্দন মেলার শেষ দিনেই ‘কালোবাড়ি’ তার সম্পূর্ণ রূপে ফিরে এসেছে। কলাভবনের অধ্যাপকদের কথায়, “এ যেন পুরনো বন্ধুকে ফের জীবিত করে তোলার মতো এক অভিজ্ঞতা।” মার্চ মাসে কাজ শুরু হলেও অতিরিক্ত বৃষ্টি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবুও উপাচার্যের তত্ত্বাবধানে পুরো কাজ শেষ করা সম্ভব হয়েছে। যা দেখে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা খুশি হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
কলাভবনের পড়ুয়ারা, যাঁরা সংস্কারের এই মহৎ যজ্ঞে অংশ নিয়েছিলেন, তাঁরা আবেগাপ্লুত। তাঁদের কথায়, “কালোবাড়ির ভাস্কর্যের গায়ে হাত বোলাতেই মনে হচ্ছে, যেন মরে যাওয়া গাছ আবার নিঃশ্বাস নিচ্ছে। এতদিন অধ্যাপকদের মুখে ঐতিহ্যের কথা শুনেছি, আজ নিজের হাতে সেই কাজ করতে পারা সৌভাগ্যের।”
নন্দন মেলায় আগত পর্যটকরাও ‘কালোবাড়ি’র নতুন রূপ দেখে বিস্মিত। তাঁদের চোখে এখন পুরনো জরাজীর্ণ বাড়ির কোনও ছাপ নেই। তাই এই শীতে শান্তিনিকেতন গেলে অবশ্যই এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যটি ঘুরে আসুন। ছুঁয়ে দেখতে পারেন নন্দলাল-রামকিঙ্করের হাতের সেই জাদু।