‘সঞ্চার সাথী নজরদারি অ্যাপ নয়, না চাইলে ডিলিট করুন’! লোকসভায় বিরোধীদের অভিযোগ উড়িয়ে ব্যাখ্যা দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সিন্ধিয়া

দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের মধ্যে স্মার্টফোনে প্রি-ইনস্টল্ড ‘সঞ্চার সাথী’ (Sanchar Saathi App) অ্যাপ নিয়ে বুধবার লোকসভায় বিস্তৃত ব্যাখ্যা দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া (Jyotiraditya Scindia)। বিরোধীদের পক্ষ থেকে এই সাইবারসুরক্ষা অ্যাপটিকে নাগরিকদের ওপর ‘নজরদারি’ চালানোর একটি নতুন হাতিয়ার হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল।
মন্ত্রীর ব্যাখ্যায় স্বস্তি:
বিরোধীদের অভিযোগ স্পষ্টভাবে অস্বীকার করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সিন্ধিয়া বলেন, “সঞ্চার সাথী দিয়ে কারও ওপর নজরদারির সুযোগ নেই। চাইলে অন্য যে কোনও অ্যাপের মতো এটিও মুছে ফেলা যাবে। ইচ্ছা না থাকলে কেউ এটি সক্রিয়ও করবেন না – এটাই গণতন্ত্রের অধিকার।” তিনি জানান, অ্যাপ ব্যবহারের সাফল্য নির্ভর করে জনগণের অংশগ্রহণের ওপর, তাই প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে সরকার নির্দেশ পরিবর্তনের পথেও ভাবছে।
এর আগে সোমবারের নির্দেশ নিয়ে আপত্তি ওঠার পর মন্ত্রী তাঁর এক্স পোস্টেও এই একই কথা জানিয়েছিলেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি গুগল ম্যাপের উদাহরণ টেনে বলেছিলেন, “ফোনে অনেক অ্যাপ থাকে। আপনি চাইলে ব্যবহার করবেন, না চাইলে রাখবেন না।”
অ্যাপ নিয়ে বিরোধীদের ৫টি প্রধান উদ্বেগ:
যদিও মন্ত্রীর এই আশ্বাস বিতর্ক কমাতে পারেনি। বিরোধীদের মূল অভিযোগ হলো, আগাম ইনস্টল থাকা অ্যাপ মুছে ফেললেও তার ফিচার পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় হয় কি না, তা সাধারণ ব্যবহারকারীর জানার উপায় নেই। ফলে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের আশঙ্কা থেকেই যায়।
১. নতুন ‘নজরদারি টুল’: বিরোধীরা সঞ্চার সাথীকে পেগাসাস বিতর্কের ইস্যু টেনে নতুন ‘নজরদারি টুল’ আখ্যা দিয়েছেন। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং কার্তি চিদম্বরমের মতো নেতারা একে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের চেষ্টা এবং দেশকে ‘একনায়কত্বের দিকে’ ঠেলে দেওয়ার পদক্ষেপ বলে আক্রমণ করেছেন। ২. অত্যন্ত সংবেদনশীল অনুমতি: অ্যাপটি ইনস্টল হলে এটি ক্যামেরা অ্যাক্সেস, কল ও মেসেজ মনিটরিং, নেটওয়ার্ক স্টেট পড়া, এবং লোকেশন অ্যাক্সেসের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল অনুমতি চাইবে, যা গোপনীয়তার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। ৩. নিষ্ক্রিয় করার অনিশ্চয়তা: ব্যবহারকারী কোনওভাবে এটি মুছতে না পারলে (আগের নির্দেশ অনুযায়ী), অ্যাপটি ভবিষ্যতে সর্বক্ষণিক লোকেশন ট্র্যাকার বা আরও বিস্তৃত নজরদারি টুলে পরিণত হবে না—তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ৪. ডেটা সুরক্ষা আইনের দায়বদ্ধতা: নতুন ডেটা প্রোটেকশন আইনে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে বহু ছাড় রয়েছে। ফলে এই বাধ্যতামূলক অ্যাপের মাধ্যমে ডেটা অপব্যবহার হলে নাগরিকের প্রতিকার পাওয়ার রাস্তা সীমিত। ৫. স্বচ্ছতার অভাব: সঞ্চার সাথীকে বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কোনও জনপরামর্শ বা খসড়া প্রকাশ করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এটি স্বচ্ছ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, বরং একতরফা চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত।