৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বহাল, তার মাঝেই গ্রুপ-সি ও ডি-র ‘যোগ্য’-দের তালিকা প্রকাশের নির্দেশ হাইকোর্টের

পশ্চিমবঙ্গের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আজ কলকাতা হাইকোর্টে দুটি ভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রায় ও নির্দেশ সামনে এলো। এক দিকে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিলের সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ খারিজ করে দেওয়ায় শিক্ষক পরিবারগুলিতে বড় স্বস্তি ফিরেছে। অন্য দিকে, বিচারপতি অমৃতা সিন্হা গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ‘যোগ্য’ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিলেন।

যোগ্যদের তালিকা প্রকাশের নির্দেশ:

গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বিচারপতি অমৃতা সিন্হা স্কুল সার্ভিস কমিশনকে (SSC) একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, ৮ ডিসেম্বরের আগে ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী ‘নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত অযোগ্য’ নন, এমন প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে।

বিচারপতি সিন্হা পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, ‘যাঁরা ওয়েটিং লিস্টে ছিলেন, তাঁরাও যদি ‘যোগ্য’ তালিকায় থাকেন, তাহলে তাঁরাও যেন বয়সজনিত ছাড় পান ও নতুন নিয়োগে অংশ নিতে পারেন।’ এটি অপেক্ষমান বৈধ প্রার্থীদের জন্য এক বড় সুযোগ এনে দিয়েছে।

এর আগে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এসএসসি কর্তৃপক্ষ ২০১৬ সালের গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ৩ হাজার ৫১২ জন ‘দাগি’ শিক্ষাকর্মীর নামের তালিকা (যারা চিহ্নিতভাবে অযোগ্য) তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছিল। পুরো প্যানেল বাতিল হওয়ায় এই কর্মীদের চাকরি গিয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে নতুন করে যে পরীক্ষা নেওয়া হবে, সেখানে যেন কোনও ‘অযোগ্য’ শিক্ষাকর্মী বসতে না পারে।

প্রাথমিকের ৩২ হাজার শিক্ষকের ভাগ্যে স্বস্তি:

এদিন দুপুরে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ রায় ঘোষণা করে নিশ্চিত করেছে যে, প্রাথমিকে ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বহাল থাকছে।

নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে সিঙ্গল বেঞ্চের (তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়) নির্দেশ ছিল ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা যায়, যা পুনর্বিবেচনার জন্য হাইকোর্টে ফেরত আসে। ডিভিশন বেঞ্চের আজকের রায়ে চাকরি বাতিলের নির্দেশ খারিজ হওয়ায় ৩২ হাজার শিক্ষকের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আপাতত দূর হলো।