‘পরিশ্রম, ধৈর্য আর যত্ন থাকলে সফল হওয়া যায়’, সিরাজুলের সাফল্যে অনুপ্রাণিত বসিরহাটের বহু তরুণ কৃষক, জনপ্রিয় হচ্ছে আরবের খেজুর চাষ!

উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের বড় গোবরা গ্রামের ৬৭ বছর বয়সী কৃষক সিরাজুল ইসলাম আরবের খেজুর চাষ করে বাংলার মাটিতে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁর এই সাফল্যের গল্প এখন বহু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা।

হজ থেকে এল অনুপ্রেরণা

সৌদি আরবে হজে গিয়ে সিরাজুল ইসলাম এক নতুন প্রেরণা পেয়েছিলেন। সেখান থেকে তিনি সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন আরবের খেজুরের বীজ। দেশে ফিরে এসে তিনি ইউটিউব (YouTube)-এর সাহায্য এবং নিজ উদ্যোগে সেই বীজ থেকে চারা তৈরির কাজ শুরু করেন। কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁর পরিশ্রমে বহু চারা গাছ তৈরি হয়।

চাষ ও চারা উৎপাদন করে সাফল্য

সিরাজুল ইসলামের পরিশ্রমে ফল মিলতে দেরি হয়নি। তিনি তাঁর বাড়ির পাশে এক বিঘা জমিতে প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি খেজুর গাছ রোপণ করেন। বর্তমানে সেই গাছগুলো চোখে পড়ার মতোভাবে বেড়ে উঠেছে। তিনি আশাবাদী যে আগামী দিনে এই গাছগুলো থেকেই উন্নতমানের খেজুর ফল পাওয়া যাবে।

শুধু খেজুর চাষ নয়, সিরাজুল ইসলাম বীজ থেকে প্রায় ২০০টি চারা তৈরি করেছেন এবং সেই চারা উৎপাদন ও বিক্রির মাধ্যমেও লাভের মুখ দেখছেন। তাঁর তৈরি চারা ইতিমধ্যেই বাজারে বিক্রির উপযুক্ত হয়েছে।

‘আমাদের মাটিতেও ফলানো সম্ভব’

রাজ্যে আরবের খেজুর চাষকে জনপ্রিয় করতে এবং স্থানীয় চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চান এই প্রবীণ কৃষক। সিরাজুল ইসলামের কথায়, “খেজুর শুধু আরবেই নয়, আমাদের মাটিতেও ফলানো সম্ভব। পরিশ্রম, ধৈর্য আর যত্ন থাকলে সফল হওয়া যায়।”

প্রবীণ এই চাষির সাফল্যের গল্প এখন বসিরহাটের বহু নতুন প্রজন্মের কৃষকের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। তাঁকে দেখে অনেকেই যেমন আরবের খেজুর চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন, তেমনই নতুন নতুন বিকল্প চাষের ক্ষেত্রেও উৎসাহ পাচ্ছেন।