নিট পরীক্ষায় স্বচ্ছতা রক্ষায় বড় জয় কেন্দ্রের! টেলিগ্রাম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বহাল রাখল দিল্লি হাইকোর্ট

ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট বা নিট (NEET-UG) পুনঃপরীক্ষাকে সামনে রেখে দেশজুড়ে ডিজিটাল নিরাপত্তার স্বার্থে এক বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ২২শে জুন পর্যন্ত ভারতে টেলিগ্রাম অ্যাপ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার যে নির্দেশ কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY) দিয়েছিল, তাকেই স্বীকৃতি দিল দিল্লি হাইকোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি তেজস কারিয়ার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ টেলিগ্রামের সমস্ত আবেদন খারিজ করে দিয়ে সরকারের এই পদক্ষেপকে আইনত সঠিক বলে রায় দিয়েছে।
আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, সরকারের এই পদক্ষেপ ‘ন্যূনতম বিধিনিষেধমূলক’ এবং একে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলা যায় না। শুনানি চলাকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল আর. ভেঙ্কটরামানি ও সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা কঠোর যুক্তি পেশ করেন। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, “টেলিগ্রামের নিজস্ব গঠনকাঠামোই এমন যে তা অপরাধমূলক কার্যকলাপ ঠেকাতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আমরা এটি ব্লক করেছি যাতে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার মতো কোনো অনভিপ্রেত ঘটনা না ঘটে।” অন্যদিকে, অ্যাটর্নি জেনারেল প্ল্যাটফর্মটিকে ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন যে, লাভের জন্য তৈরি কোনো প্ল্যাটফর্ম জনস্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ‘আনুপাতিকতা’র অজুহাত দিয়ে পার পেতে পারে না।
উল্লেখ্য, এর আগে মূল নিট পরীক্ষাটি ব্যাপক প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগে বাতিল করা হয়েছিল। এরপরই ২১শে জুন পুনঃপরীক্ষার তারিখ ধার্য করে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার গোপনীয়তা রক্ষায় সরকার তথ্য প্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ধারা ৬৯এ প্রয়োগ করেছে। এর পাশাপাশি, মন্ত্রণালয় টেলিগ্রামকে নির্দেশ দিয়েছে যে, ৩০শে জুনের মধ্যে অ্যাপের ‘মেসেজ এডিটিং’ বা বার্তা সম্পাদনা ফিচারটি পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করতে হবে।
টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষ আদালতে দাবি করেছিল যে, তারা মে মাস থেকে সরকারের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে প্রায় ৯০০টিরও বেশি আপত্তিকর লিঙ্ক ও চ্যানেল সরিয়ে ফেলেছে। কোম্পানিটি আরও জানায় যে, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ১৫ কোটি ব্যবহারকারী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং এটি সংবিধানের ১৪ নং অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। তবে আদালত তাদের এই যুক্তি গ্রহণ করেনি। বিচারপতি তেজস কারিয়া পর্যবেক্ষণে বলেছেন, পরীক্ষার স্বচ্ছতা রক্ষা করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। আদালতের এই রায়ের ফলে এখন ২১শে জুন পর্যন্ত ভারতে টেলিগ্রাম পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ থাকবে, যা পরীক্ষার সুষ্ঠু আয়োজনে সরকারের অঙ্গীকারকেই প্রতিফলিত করে।