জইশের মহিলা ব্রিগেড, পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ডের স্ত্রী আফিরা বিবি এখন ‘জামাত-উল-মোমিনাত’-এর নতুন মুখ

দিল্লিতে লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের কয়েক সপ্তাহ আগে, কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) তাদের মহিলা উইং-এ এক বড় সংযোজন করেছে। ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ডের স্ত্রী আফিরা বিবি এখন জইশ-ই-মহম্মদের মহিলা শাখা ‘জামাত-উল-মোমিনাত’-এর অন্যতম প্রধান মুখ।
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, আফিরা বিবি এই ব্রিগেডের শুরা বা উপদেষ্টা পরিষদে যোগদান করেছেন। তিনি জইশের শীর্ষ নেতা মাসুদ আজহারের ছোট বোন সাদিয়া আজহারের সঙ্গে কাজ করবেন। সাদিয়া আজহার কান্দাহার ছিনতাইয়ের মূল পরিকল্পনাকারী জঙ্গি ইউসুফ আজহারের স্ত্রী এবং ভারতে সন্ত্রাস ছড়ানোর ঘৃণ্য পরিকল্পনায় তিনি প্রধান ভূমিকা পালন করেন।
মহিলা নেটওয়ার্ক ও ফিদায়েঁ প্রস্তুতি
সাদিয়ার নেতৃত্বে আফিরা এখন ‘জামাত-উন-মোমিনাত’-এর কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করবেন। এই গোষ্ঠীর প্রধান উদ্দেশ্য হলো মুসলিম মহিলাদের মধ্যে মাসুদ আজহারের প্রচার ও উগ্র আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়া। গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, জইশ এখন আইসিস, হামাস এবং এলটিটিই-এর মতো মহিলাদের মাধ্যমে তার নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে এবং অবশেষে তাঁদের ফিদায়েঁ (আত্মঘাতী) হামলার জন্য প্রস্তুত করছে।
নিয়োগের পদ্ধতি: জামাত-উন-মোমিনাত ‘ধর্মীয় শিক্ষা’ এবং ‘সামাজিক কার্যকলাপের’ আড়ালে চরমপন্থী দৃষ্টিভঙ্গী সম্পন্ন মহিলাদের শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছে। জইশ এটিকে নারী ক্ষমতায়ন হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।
অনলাইন প্রশিক্ষণ: গত মাসে তহবিল সংগ্রহ এবং বিপুল সংখ্যক নারীদের নিয়োগের জন্য ‘তুফাত আল-মোমিনাত’ নামে একটি অনলাইন প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করেছে এই মহিলা ব্রিগেড। এই কোর্সের আওতায় জইশ কমান্ডারদের পরিবারের নারী সদস্যদের ‘জিহাদের দৃষ্টিকোণ থেকে নারীদের কর্তব্য’ শেখানো হবে।
দিল্লি বিস্ফোরণ ও মহিলা ব্রিগেডের যোগসূত্র
তদন্তকারীদের দাবি, লখনউয়ের বাসিন্দা ডাক্তার শাহিন শাহিদ-এর গ্রেপ্তারের পর দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণের সঙ্গে জইশের মহিলা ব্রিগেডের সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে। ভারতে জামাত-উন-মোমিনাত-এর সদস্য শাহিনকে ভারতে সংগঠনের স্থানীয় ইউনিট প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, সোমবার সন্ধ্যায় লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে ধীরগতিতে একটি আই২০ গাড়ি বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা আগে তাঁর গাড়িতে একটি অ্যাসল্ট রাইফেল এবং গুলি পাওয়া যাওয়ার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এই বিস্ফোরণে ১২ জন নিহত এবং প্রায় ২০ জন আহত হন।