পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত জলপথ পাড়ি দিয়ে ভারতে এল এলএনজি জাহাজ! জ্বালানি সংকটের ভয় কাটাল ‘দিশা’

পশ্চিম এশিয়ার চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতি এবং স্ট্রেইট অফ হরমুজকে ঘিরে তৈরি হওয়া গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যেই ভারতের জন্য এল এক বড় স্বস্তির খবর। শুক্রবার সকালে মাल्टा পতাকাবাহী এলএনজি ক্যারিয়ার ‘দিশা’ সম্পূর্ণ নিরাপদে গুজরাটের দাহেজ বন্দরে এসে পৌঁছেছে। জাহাজটি মোট ৬২,৩৭০ মেট্রিক টন লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) নিয়ে এসেছে, যা দেশের জ্বালানি চাহিদার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় ছিল স্ট্রেইট অফ হরমুজ, যা বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বিশ্বের অন্যতম স্পর্শকাতর জলপথ। জাহাজটি গত ১৫ই জুন সাফল্যের সঙ্গে এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং মূল্যের ওপর এই জলপথের প্রভাব অপরিসীম। এই পরিস্থিতিতে ‘দিশা’-র নিরাপদ আগমন ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক বিরাট সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে, চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও জরুরি জ্বালানি কার্গো নিরাপদে দেশে পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা ভারতের রয়েছে।
পেট্রোনেট এলএনজি-র জেটিতে জাহাজটি নোঙর ফেলার পর সরকারি মহলে স্বস্তি ফিরেছে। বন্দর, শিপিং এবং জলপথ মন্ত্রকের আধিকারিক ওমেশ কুমার শর্মা জানিয়েছেন, ভারত সরকার পরিস্থিতির ওপর ২৪ ঘণ্টা তীক্ষ্ণ নজর রাখছে। এই কাজে বিদেশ মন্ত্রক, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক এবং রাসায়নিক ও সার মন্ত্রকের মধ্যে একটি মাল্টি-মিনিস্ট্রি কোঅর্ডিনেশন বা আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় গড়ে তোলা হয়েছে। লক্ষ্য একটাই—ফারস উপসাগর এলাকায় থাকা ভারতীয় জাহাজ এবং জরুরি জ্বালানি সম্পদ যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তথ্য বিনিময়ের জন্য সব এজেন্সিকে সতর্ক রাখা হয়েছে।
বর্তমানে নিরাপত্তার খাতিরে ‘দিশা’ পার হওয়ার পর আর কোনো ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজকে ওই এলাকা থেকে বের করা হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শিপিং সংস্থাগুলো সতর্ক রয়েছে। তবে সিফেরার বা নাবিকদের সুরক্ষায় সরকার কোনো খামতি রাখছে না। ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিং-এর কন্ট্রোল রুম নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গত কয়েক দিনে প্রায় ১৩,১৮৭টিরও বেশি ফোন কল এবং ২৯,০০০-এর বেশি ইমেইলের মাধ্যমে নাবিক ও তাদের পরিবারের সহায়তা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩,৬৩৯ জন ভারতীয় নাবিককে নিরাপদে ফেরাতে সাহায্য করেছে সরকার। দাহেজ বন্দরে ‘দিশা’-র এই নিরাপদ নোঙর বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় ভারতের জ্বালানি কৌশলের এক বড় জয়।