চিনের সঙ্গে যোগসাজশ, ‘টপ সিক্রেট’ নথি পাচারের অভিযোগে আমেরিকায় গ্রেফতার ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ

ভারতীয় বংশোদ্ভূত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও দক্ষিণ এশিয়ার নীতি উপদেষ্টা অ্যাশলে টেলিসকে গ্রেফতার করল ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি চিনের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন এবং অবৈধভাবে হাজার হাজার গোপন সরকারি নথি নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন। এফবিআইয়ের দায়ের করা হলফনামা ও ফৌজদারি অভিযোগ থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যার একটি অনুলিপি হিন্দুস্তান টাইমস দেখেছে।

ভারতে জন্মগ্রহণকারী, ৬৪ বছর বয়সী টেলিস এখন মার্কিন নাগরিক। গত ১১ অক্টোবর ভার্জিনিয়ায় তাঁর বাসভবনে এফবিআই অভিযান চালায় এবং সেখান থেকে ‘টপ সিক্রেট’ ও ‘সিক্রেট’ চিহ্নিত হাজার পৃষ্ঠারও বেশি গোপন নথি উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। গত ১৩ অক্টোবর ভার্জিনিয়া জেলা আদালতে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে হাজির করা হয়।

গোপন নথি উদ্ধারের বিবরণ:

এফবিআই জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া নথিগুলি অ্যাশলে টেলিসের বেসমেন্ট অফিসে একটি তালাবদ্ধ ফাইলিং ক্যাবিনেট, একটি ডেস্ক এবং তিনটি বড় কালো আবর্জনার ব্যাগে লুকানো ছিল।

এফবিআই অনুসারে, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর স্টেট ডিপার্টমেন্টের হ্যারি এস ট্রুম্যান বিল্ডিংয়ে একটি কম্পিউটার সিস্টেম থেকে শত শত নথি প্রিন্ট করেন টেলিস। তিনি ‘ইউএস এয়ার ফোর্স ট্যাকটিক্স’ সম্পর্কিত একটি ১২৮৮ পৃষ্ঠার ফাইল সেভ করে তা প্রিন্ট করেন এবং পরে ফাইলটি মুছে দেন।

এছাড়াও, ১০ অক্টোবর, অন্য একটি নিরাপত্তা ক্যামেরায় দেখা যায়, টেলিস মার্ক সেন্টারে (আলেকজান্দ্রিয়া, ভার্জিনিয়া) থেকে একটি নোটপ্যাডে কিছু গোপন নথি লুকিয়ে নিজের চামড়ার ব্রিফকেসে রাখছেন।

চিনা যোগসূত্রের অভিযোগ:

এফবিআই হলফনামায় আরও বলা হয়েছে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে টেলিস ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্সের রেস্তোঁরাগুলিতে বেশ কয়েকবার চিনা সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেছিলেন। ২০২২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বরের এমনই একটি মিটিংয়ে টেলিস একটি ম্যানিলা খাম নিয়ে রেস্তোঁরায় প্রবেশ করলেও বের হওয়ার সময় খামটি তাঁর হাতে ছিল না। বৈঠকে ইরান-চিন সম্পর্ক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মার্কিন-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের একটি বৈঠকে চিনা কর্মকর্তারা টেলিসকে একটি লাল উপহারের ব্যাগও দিয়েছিলেন।

অ্যাশলে টেলিসের পরিচিতি:

মুম্বইয়ে জন্ম নেওয়া অ্যাশলে টেলিস মুম্বই বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ২০০১ সাল থেকে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের উপদেষ্টা পদে ছিলেন এবং মার্কিন-ভারত বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তির অন্যতম প্রধান আলোচক ছিলেন। তিনি প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের বিশেষ সহকারী এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে কৌশলগত পরিকল্পনা ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার সিনিয়র পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

বর্তমানে তিনি প্রতিরক্ষা বিভাগের নেট অ্যাসেসমেন্ট অফিসে ঠিকাদার হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন এবং কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের সিনিয়র ফেলো হিসাবে কাজ করছেন। এফবিআইয়ের মতে, ১১ অক্টোবর সন্ধ্যায়, টেলিসের তাঁর পরিবারের সঙ্গে রোমের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা ছিল। তবে দেশ ছাড়ার ঠিক আগেই তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গোপন নথি উদ্ধার করা হয়।