মার্কিন শুল্কের হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও রাশিয়া থেকে তেল কিনছে ভারত, তবে আমদানি কমল ৪৫%, আসল কারণ কী?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি এবং অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ সত্ত্বেও রাশিয়া থেকে ভারতে তেল রফতানি সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। যদিও এখনও রাশিয়া থেকেই বেশিরভাগ অপরিশোধিত তেল কিনে চলেছে ভারত, তবুও পরিসংখ্যান বলছে ধীরে ধীরে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমাচ্ছে নয়াদিল্লি। এই বছরের প্রথম আট মাসে প্রায় ১০% হ্রাস পেয়েছে রাশিয়ার থেকে তেল কেনার পরিমাণ।

কমোডিটি ট্র্যাকার কোম্পানি কেপলারের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ভারত প্রতিদিন মোট ৪.৫ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। এর মধ্যে প্রায় ১.৬ মিলিয়ন ব্যারেল (৩৪%) রাশিয়া থেকে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে ভারতের তেল আমদানি প্রায় ৭০ হাজার ব্যারেল বৃদ্ধি পেলেও, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনকারী সংস্থাগুলি জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাশিয়ান তেল ক্রয় ৪৫ শতাংশেরও বেশি কমিয়েছে।

কেপলারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ান তেল আমদানিতে এই পতন কোনও মার্কিন শুল্ক বা ইউরোপীয় সমালোচনার ফল নয়, বরং সম্পূর্ণরূপে বাজারের পরিস্থিতি দ্বারা চালিত। রিপোর্টে বলা হয়েছে, জুনে যেখানে ভারতীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি দৈনিক গড়ে ১.১ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রাশিয়া থেকে আমদানি করত, সেখানে সেপ্টেম্বরে তা কমে ৬ লাখ ব্যারেল হয়ে গিয়েছে।

এই প্রসঙ্গে ইন্ডিয়ান অয়েলের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা শুধুমাত্র অর্থনৈতিক দিকের কথা মাথায় রেখেই তেল কিনি। আমরা ইচ্ছে করে রাশিয়ার তেল কেনা কমাচ্ছি না বা বাড়াচ্ছি না। তেলের দাম এবং শোধনাগারের প্রয়োজনের উপর নির্ভর করে তেল কিনি আমরা।’

রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের আবহে ভারত সস্তায় রাশিয়া থেকে তেল কেনার দিকে ঝুঁকেছিল। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ৩৯ মাসে রাশিয়া থেকে তেল কিনে ১২.৬ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করেছিল ভারত। কিন্তু ভারতের এই রাশিয়ান তেল কেনার বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, রাশিয়ার তেল কিনে মস্কোর যুদ্ধ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে ভারত।

যদিও ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে জ্বালানি নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েই রাশিয়া থেকে কম দামে তেল কেনা হয়েছে। এরই মাঝে ভারত সরকার বলেছে যে জ্বালানি বৈচিত্র্যের উপর জোর দেওয়া হয়েছে, তবে রাশিয়ার সাথে কৌশলগত অংশীদারিত্ব অক্ষুণ্ণ থাকবে।