পাকিস্তানকে IMF-এর ঋণ! আমেরিকা সফরে যাচ্ছেন না নির্মলা সীতারামন, বড় বার্তা ভারতের

চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হতে চলা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাঙ্কের বার্ষিক বৈঠকে যোগ দেবেন না ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ একদিকে যেমন রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে আমদানি শুল্ক নিয়ে চরম টানাপোড়েন চলছে, তেমনই অন্যদিকে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন পাকিস্তানকে মোটা অঙ্কের ঋণ দিয়েছিল আইএমএফ।
সূত্রের খবর, এই আবহে ভারত সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বৈঠকে যোগ দিতে নির্মলা সীতারামন আমেরিকায় যাবেন না। অর্থমন্ত্রীর পরিবর্তে মার্কিন মুলুকে হতে চলা এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন অর্থ মন্ত্রকের অর্থনৈতিক বিষয়ক সচিব অনুরাধা ঠাকুর। তাঁর সঙ্গে যোগ দেবেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা এবং মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরন। এই প্রতিনিধি দল ব্রিকস, জি-২০ এবং জি-২৪ গ্রুপের পাশাপাশি আইএমএফের বোর্ড অফ গভর্নরের বৈঠকেও অংশ নেবে।
রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারতের ওপর ‘জরিমানা’ হিসেবে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে আমেরিকা। ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে ভারতীয় পণ্যের উপর মোট ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে অর্থমন্ত্রীর বৈঠক বয়কট যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
অন্যদিকে, পহেলগাঁও হামলার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানকে ১০০ কোটি ডলারের ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্তে ভারত আপত্তি জানিয়েছিল। নয়াদিল্লির দাবি ছিল, এই অর্থ সীমান্ত সন্ত্রাসে অর্থায়নের জন্য ব্যবহার করতে পারে পাকিস্তান। কিন্তু সেই আপত্তি গ্রাহ্য করেনি আইএমএফ। তাদের যুক্তি ছিল, পাকিস্তান সর্বশেষ ঋণের কিস্তি পাওয়ার জন্য ‘প্রয়োজনীয় সমস্ত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছে’।
ঋণে জর্জরিত পাকিস্তানকে সহায়তা প্যাকেজের অংশ হিসেবে গত মে মাসে আইএমএফ-এর তরফ থেকে ১ বিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছিল। ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন গত ৯ মে আইএমএফ বোর্ড এই ঋণ সংক্রান্ত চুক্তি পর্যালোচনা করে। ভোটাভুটি থেকে ভারত বিরত থাকলেও পাকিস্তানকে এই ‘বেলআউট প্যাকেজ’ দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে অর্থমন্ত্রীর অনুপস্থিতি আইএমএফ ও আমেরিকার প্রতি ভারতের নীরব প্রতিবাদেরই ইঙ্গিত বহন করছে বলে মনে করা হচ্ছে।