গীতা বিতরণ করায় বিজেপি কর্মীদের বেধড়ক মার, কাঠগড়ায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা

পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বর আবারও ভয়াবহ এক ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে। দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে পাণ্ডবেশ্বরের মহল গ্রামে ভগবত গীতা বিলি করার সময় বিজেপি কর্মীদের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনা এলাকায় সাম্প্রদায়িক আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ, শেখ আলাউদ্দিন এবং আজহার নামে দুই দুষ্কৃতী আকস্মিকভাবে এসে বিজেপি কর্মীদের বেধড়ক পেটাতে শুরু করে। এই হামলায় ৪ জন বিজেপি কর্মী গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, আলাউদ্দিন এবং আজহার রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস আশ্রিত।
কয়লাখনি এবং কৃষিভিত্তিক জীবিকা প্রধান পাণ্ডবেশ্বরের মহল গ্রামে বিজেপির স্থানীয় কর্মীরা ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক প্রচারের অংশ হিসেবে ভগবত গীতার বই বিতরণ করছিলেন। স্থানীয়দের মতে, সকাল ১০টা নাগাদ কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও দুপুরের দিকে পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
যখন বিতরণ চলছিল, তখনই দুই যুবক—শেখ আলাউদ্দিন এবং আজহার—প্রায় ১০-১২ জনের একটি দল নিয়ে সেখানে হুড়মুড় করে হামলা করে। তারা লাঠি, রড এবং হাতে-পায়ে মারধর শুরু করে। একটি ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, হামলাকারীরা চিৎকার করতে করতে ‘এখানে হিন্দু প্রচার চলবে না’ বলে হুমকি দিচ্ছে। সংখ্যায় কম থাকায় বিজেপি কর্মীরা পালাতে বাধ্য হন।
আহত চারজন বিজেপি কর্মীকে মহলের নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও স্থিতিশীল। ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করলেও এখনও কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
বিজেপির স্থানীয় নেতারা সরাসরি অভিযোগ করেছেন, আলাউদ্দিন এবং আজহার তৃণমূল বিধায়কের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং এই হামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল।
যদিও রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, অভিযুক্তদের নামের কারণে অনেকে ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক হিংসা বলে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন। তবে এই হামলার আসল কারণ সাম্প্রদায়িক হিংসা নাকি নিছক রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, তা পুলিশি তদন্তের পরই পরিষ্কার হবে।