‘আপত্তি’ জানালেই হবে না, কারণ চাই! ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ বিতর্কে কঠোর নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উপাচার্য (VC) নিয়োগ নিয়ে রাজ্য সরকার ও রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের মধ্যে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য এখনও কাটল না। সুপ্রিম কোর্টের মধ্যস্থতা সত্ত্বেও এখনও ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের বিষয়ে কোনো সমাধান মেলেনি। এর আগে ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা কাটাতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি উদয় উমেশ ললিতের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সিলেকশন কমিটি গঠন করেছিল।
কমিটি প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যোগ্যতার ক্রম অনুযায়ী তিনজন সম্ভাব্য উপাচার্যের নামের তালিকা তৈরি করে দিলেও, রাজ্যের সমস্যা থেকেই যাচ্ছে।
রাজ্যের অনুমোদন: রাজ্য সরকার ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য তৈরি প্যানেল অনুমোদন দিয়েছে এবং দ্রুত উপাচার্য নিয়োগের সবুজ সঙ্কেত চেয়েছে।
আপত্তি জানাল রাজ্য: ৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্যানেলে আপত্তি জানানো হয়েছে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে।
আচার্যের অসন্তোষ: আচার্য চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত প্যানেল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানিতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বর্ষীয়ান আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি ন’টি অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের সবুজ সঙ্কেত দেওয়ার আর্জি জানালেও বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেননি।
আদালত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে রাজ্য সরকার ও আচার্যের মধ্যে সমঝোতা স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন সিঙ্ঘভি। একইসঙ্গে, অ্যাটর্নি জেনারেলকে আচার্য অর্থাৎ রাজ্যপালের সঙ্গে কথা বলার দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছে।
এছাড়াও, উপাচার্য নিয়োগে আপত্তির কারণ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করে রাজ্য সরকার ও রাজ্যপালকে পৃথকভাবে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
পুজোর ছুটির পর, ৬ অক্টোবর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। ওই শুনানিতে কোচবিহারের পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয় ও বারাসতের রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ সম্পর্কিত কমিটির রিপোর্টও সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হবে।