SIR নিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপানউতোর! এবার বড় পদক্ষেপ অভিষেকের, কী করতে চলেছেন?

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের (Special Intensive Revision – SIR) কাজ শুরু নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না করলেও, এই বিষয়টি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে চাপানউতোর ক্রমশ বাড়ছে। এই আবহে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী ৮ই অগস্ট একটি জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠক ডেকেছেন। এই বৈঠকে দলের সমস্ত জেলা সভাপতি, বিভিন্ন শাখা সংগঠনের প্রধান, বিধায়ক এবং পঞ্চায়েত স্তরের জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে, এসআইআর শুরু হলে দলের করণীয় কী হবে, তা তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতাদের কাছে ব্যাখ্যা করবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
গত বেশ কিছুদিন ধরেই গুঞ্জন চলছে যে, বিহারের পর এবার পশ্চিমবঙ্গেই ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু করতে পারে নির্বাচন কমিশন। মনে করা হচ্ছে, চলতি আগস্ট মাসেই বাংলায় এই এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। প্রসঙ্গত, বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনের পর সেখানকার খসড়া তালিকা থেকে প্রায় ৬১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে জানা গেছে, যা নিয়ে বিরোধীরা সরব হয়েছে।
বিহারের এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসও এসআইআর নিয়ে মাঠে নেমেছে। দলের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, বাংলায় কোনো যোগ্য ভোটারের নাম যদি বাদ পড়ে, তাহলে তারা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করবে। দুই দিন আগে এই বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কোনো এসআইআর হল না, আগেই বিজেপি নেতারা বলে দিচ্ছে বাংলা থেকে দুই কোটি ভোটার বাদ যাবে। দুই কোটি ভোটার বাদ দেওয়া তো দূর অস্ত, দু’জনের নাম বাংলায় বাদ দিয়ে দেখাক, বুঝিয়ে দেব কত ধানে কত চাল।”
এই পরিস্থিতিতে ৮ই অগস্টের বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া এই বৈঠকে নির্বাচন কমিশন বাংলায় ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু করলে দলের নেতাদের কী করতে হবে, তা বিস্তারিতভাবে বোঝাবেন অভিষেক। সূত্রের খবর, এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হলে যাতে কোনো যোগ্য ভোটারের নাম বাদ না যায়, তা নিশ্চিত করতে কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে, সেটাই দলের নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের বোঝানো হবে। ৮ই অগস্টের এই বৈঠকের আগে ৪ঠা অগস্ট থেকে জেলাভিত্তিক সাংগঠনিক বৈঠক করবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। বাংলার আসন্ন নির্বাচন এবং ভোটার তালিকার গুরুত্ব বিবেচনা করে তৃণমূলের এই তৎপরতা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।