মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে ভোটযুদ্ধে নেত্রী, বাংলাদেশের রাজনীতিতে নয়া সমীরণকরণ!

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ দেখা দিয়েছে। দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি এখন অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এর মাঝেই বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ৭৯ বছর বয়সে আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠছেন। গুরুতর অসুস্থতা থেকে ফিরে এসে তিনি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে তাঁর দল জানিয়েছে।

খালেদা জিয়ার প্রত্যাবর্তন

শেখ হাসিনার শাসনামলে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা ছিলেন খালেদা জিয়া। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল এবং শারীরিক অসুস্থতাও তাঁকে কাবু করে ফেলেছিল। গত বছর আগস্ট মাসে হাসিনা সরকারের পতনের পর তাঁর বিরুদ্ধে সমস্ত মামলা তুলে নেওয়া হয় এবং তাঁকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তিনি আবার রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হতে শুরু করেছেন। দেশের হাল ধরতে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে তিনি আবারও ভোট যুদ্ধে নামছেন বলে তাঁর দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ফেনী থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা

বিএনপি’র ভাইস চেয়ারপার্সেন আব্দুল আলয়াল মিন্টো জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া ফেনী কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে লড়বেন। এই বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে একটি বৈঠকও হয়েছে এবং দলনেত্রীর কাজের সুবিধার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। দলের কর্মীরা তাঁকে জেতাতে বদ্ধপরিকর।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের জল্পনা

শুধু খালেদা জিয়াই নন, তাঁর ছেলে এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে জল্পনা চলছে। বর্তমানে লন্ডনে থাকা তারেক রহমান বাংলাদেশে ফিরতে পারেন বলে মিন্টো জানিয়েছেন। দলের নেতা-কর্মীরা আশা করছেন, মা-ছেলে দুজনেই ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সম্ভাব্য নির্বাচনে লড়াই করবেন।

শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও দৃঢ়

দীর্ঘদিন ধরে খালেদা জিয়া গুরুতর শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। তিনি লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ এবং আর্থারাইটিসের মতো একাধিক রোগে আক্রান্ত। ২০১৮ সাল পর্যন্ত তাঁকে জেলবন্দি থাকতে হয়েছিল এবং ২০২০ সালে শর্তসাপেক্ষে জামিন পান। গত বছর হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি নিঃশর্ত মুক্তি পান। এত শারীরিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তাঁর এই রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে।

শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর এক বছর ধরে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে, তার সমাধান হিসেবে দ্রুত জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে প্রথম সারির রাজনৈতিক দলগুলো। তবে নির্বাচন অনুষ্ঠানে ইউনূস সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এর মধ্যে খালেদা জিয়ার নির্বাচনে ফেরার ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।